01
দ্রোহের অনল
দ্রোহের অনল কোনো অন্যায়কারীর জন্য ক্ষমার মধু যেন না নামে আমার জিহ্বায়।
Words that refused to become sentences.
Feelings that could only fit in lines.
দ্রোহের অনল কোনো অন্যায়কারীর জন্য ক্ষমার মধু যেন না নামে আমার জিহ্বায়।
পতঙ্গ মন দূর থেকে যা ভাবছি আলো কাছে গিয়েই আঁধার কালো
অন্ধকারের নেশা কত-শত প্রাণ নিমেষে হারায় কত-শত যাত্রায়
কবে তোমায় পাবো আমি আকাশে আর কতো মেঘ জমলে বেদনায় ঝরলে আর কতো অশ্রু
সবাই দূরে থাকো! মাথায় নিয়ে পাপের বোঝা আজন্ম কাল মুক্তি খোঁজা
শুনি জলের গর্জন পৃথিবীর কোনো চাহনি দেখবে না কখনো এই চোখের আড়ালে
আছি চলার পথের বিপন্নতায় কিংবা মনের বিষন্নতায়
অব্যক্ত অনুভব মন চায় তোমাকে লিখি অনুভবের শ্রেষ্ঠ শব্দমালায় সকল সময়
মায়াবতী যে তোমাকে না পেয়েছে ভাগ্যবতী রূপে!
এখানে এসো না এখানে বসন্ত নেই নেই ফুলের উৎসব পাখিদের কলরব
তার কথাই ভাবো ভুলবে বলেই তাকে তুমি আসলে আমার কাছে
সঙ্গ ছোট্ট একটা ঠুনকো জীবন কত্তো রকম রঙ্গ
কোনো এক বৃষ্টিস্নাত রাতে বাইরে বৃষ্টি, বিদ্যুৎ নেই মোমবাতিটা মোহনীয় এক
এসো না তোমাদের বর্নিল জীবনের সুবিন্যস্ত পথে বিছানো আছে সুখের মোলায়েম গালিচা
প্রিয়তমা সময়ের পরিক্রমায় কতো না মুখের আনাগোনা হলো জীবণে
আড়ি একটা দিনই একশো বছর শুনছি না তোর গলা
পার্থিবযে পথটি ছিলো দূর্বাঘাসেরআমাদের খুব চেনা,
সে কি আমি নই এখন রাত্রি এলে আঁধারের আগাছারা
অযোগ্যহরেক রকম যোগ্যতাতেনাম লেখে সব তাঁরার সাথে
আবার আসিস সম্ভাবনার যে সব প্রহর ছিনিয়ে নিলি তোরা
মোহাচ্ছন্ন ভেবেছিলাম আর হবেনা নিজের অপচয়
ক বি তা রা কবিতা কি খালি বিদ্বেন মাইনষির জন্যি! নাকি বিদ্যে দ্যাহানির জন্যি কবিতা!
বাবা [প্রফুল্ল কুমার রায়] না পেরেছি তোমার কোনো স্বপ্ন পূরণ করতে
আমার কিছু বারুদ আছে [প্রাণপ্রিয় বন্ধু কাজী রুকসানা রুমা‘র উদ্দেশ্যে] আমার কিছু বারুদ আছে
মনের মানুষ একটা মানুষ মনের মানুষ মনের মাঝে বাস,
আমাদের গল্প তোমার আমার গল্পগুলো দু'পথ দিয়ে এসে,
ছুটি ১ বন্ধুর পথে বন্ধুরা সব
তুমিই আমি তোমার মাঝের 'তুমি'গুলোর একটা 'আমি'র মতো,
শৈশব ইট, পাথরের দেয়াল ঘিরে ঝুট নাগরিক খোলস নীড়ে
অজ্ঞ দেখিনি যা সেটাই নাকি সবচে' বেশি সত্য
সেই একটা তুই তুইই আমার দাড়ি কমা সেমিক্লোন তুই ছাড়া কোনো যতি চিহ্নই
নিয়ত জীবনের প্রতিক্ষণে, নতুন নতুন মুখ কতো আসে, কতো চলে যায়
একটু জীবন চাই দেহজ মৃত্যুর আগে মরেছি তো বহুবার মৃত্যু মৃত্যু খেলতে খেলতে আমি ক্লান্ত, অবসন্ন
শব্দচাষী এক. কী ফসল ফলে শুষ্কচিত্তে
পরাজিত কষ্ট "কষ্ট করলে কেষ্ট মিলবে", শুনেছি কিশোরকালে,
শেষ বাসনা আমার মৃত্যু সবার অজান্তে নিভৃতে হলে ভালো
সেইফসাইডারস নিজকে নিয়ে সেইফ সাইডে চেঁচাই সেরে জুতো
বুভুক্ষু জন্মাবধি একটা ক্ষুধা বুভুক্ষু এই আত্মার হাপিত্তেশ!
স্টিফেনেস্টাইন : ১৪ মার্চ তত্ত্বে সত্যে দুই মহাপ্রাণ একই প্রাণের ধারা
বিদায় বেলার প্রতীক্ষা জান্তব শরীরটা আর বয়ে বেড়াতে মন চাইছেনা
কবিই তা! কবি তা হলেই কবিতা! কবিতা হলেই কবি তা!
২৫ মার্চ আজ এখানে অনেকের আনাগোনা শোকের পোশাকে সুগন্ধির প্রলেপ
স্বপ্ন চুরি ১ সুপ্ত যেসব স্বপ্নরাশি
বেশতো ছিলাম বেশতো ছিলাম সরলরেখা কিংবা জলের সাথে তুলনা করবার মতো জীবনে
বিস্মৃত রাত জাগা এক গায়ক পাখি যেদিন এসে বারান্দাতে
অনাহূত ১ ছায়ায় হাওয়ায় বরিষনে
'যাও' বললেই যেতে হবে! 'যাও' বললেই চলে যাবে? সব কিছু একটা মুখের কথায় শেষ হয়ে যায়!
পিঞ্জর এক জানালা আকাশ আমার এক মুঠো রোদ ভোর,
কীর্তি আদ্যপান্ত পৃথিবী পুরোটা প্রাণময় প্রতিবেশে
কেমন করে যাও? [আইয়ুব বাচ্চু স্মরণে] হয়তো বুঝিনি হাসতে হাসতে গাইতে থাকা
আজ জায়ান আসবে [বোমা হামলায় নিহত জায়ান স্মরণে] ছোটবেলায় গ্রীষ্মের বা শীতের ছুটিতে
আসছি তুমিও যা জানো, আমিও তা জানি সংশয় তবু থাকছে জানাজানির
কুলাঙ্গার তাহারাই বোঝে, আগেও বুঝেছে তোমাদের আছে ঢের,
শাড়ী রঙ্গ [রম্যছড়াটি নিতান্তই হাস্যরসের জন্য লেখা; বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য কিংবা কৃষ্টিকে হেয় করতে নয়] 🤣
চাইনা কারো প্রেম (লিরিক) আমার কথারা শুধু নির্বাক জ্বালাময় অন্ধকারে খোঁজে আলোর দিশা,
দহন আমার যাবতীয় সুখে থাকার প্রহরগুলো অকস্মাৎ প্রহার করছে আমাকে
প্রস্থান আলগা করেছি জাগতিক সব মায়ার বাঁধন, কোলাহল ঘেরা নাগরিক সুখ টানে না আমায়।
হোক প্রতিরোধ কখনো ভূলুণ্ঠিত, কখনো রক্তাক্ত, কখনো দগ্ধীভূত বিশ্বাসের পবিত্রগৃহ, ধর্মগ্রন্থ, ত্রাতার ভাস্কর্য
অপঠিত শেখোনি শব্দবিন্যাস বাক্য প্রকরণ উচ্চারণ কিংবা ধ্বনিতত্ত্ব
ক্ষ খেলতে খেলতে তোমরা কতই নষ্ট খেলা খেললে
কিক্ মার জোরে মা বলের গায়ে লক্ষ্যভেদী কিক্
না আর কখনো ভুল করেও কারো কথায় চলবো না একান্ত যা নিজের কথা কারোর কাছে বলবো না
বৃথাই তরী বাওয়া তীরের ধারে ডুবুডুবু যখন তরীখানি যাত্রীরা সব বাধায় হুলুস্থুল
সূর্য সৈনিক ১২ জানুয়ারি ১৯৩৪ একরাশ সূর্যকিরণ ছড়িয়ে
দন্ডিত আততায়ী কবি কতোটা কষ্টে একটা জীবন মানবিক হতে পাশবিক হয়? কেউ তার খোঁজ রাখে না।
এই নষ্ট পৃথিবী আমার নয় যে পৃথিবী হবার কথা ছিল প্রতিটি নিষ্পাপ শিশুর
মিথ্যাচার (?) ১ তোকে পেয়েই পূর্ণ জীবন
আলোক-উৎসব [রবীন্দ্র জয়ন্তী] বিবেকানন্দ লালন বুদ্ধ
নিয়তি ঝড়ঝঞ্ঝার দাপট সয়ে তীরের কাছে এসে
ব্যারিকেইড কর্মবিহীন ধর্মাচরণ সৃষ্টিবিমুখ স্রষ্টা স্মরণ
আমি অভিনেতা হতে আসিনি আমার চারপাশে অগনিত কুশীলব যে যার পারফরমেন্স দেখাতে উদগ্রীব
স্বপ্নডানাআমার স্বপ্নেরাডানা মেলে উড়ে চলে
দেহজ প্রেম্যালার্জি তোমার স্ট্রাকচার, মেইক আপ, গেট আপ, সেট আপ
মুখস্থ মানুষভিতরে, বাইরে ও পরিপার্শ্বেবেসুমার চর্বিত চর্বণ
ক বি তা এত এত মেটাফোর, সিমিলি, পার্সনিফিকেইশন,
প্লাগ-ইন চুম্বনের শৈল্পিক নান্দনিকতা, চৌম্বকীয় আবেশ কিংবা অপার অনুভবের মোহমুগ্ধতা
পুনশ্চঃ কখনো ভূলুণ্ঠিত, কখনো রক্তাক্ত, কখনো দগ্ধীভূত-
Can't You See? (Lyric) Can't you see
নিমজ্জন একরাশ আলোর সান্নিধ্য থেকে ক্রমাগত নিমজ্জিত হচ্ছি
প্রেমানুভবে ঈশ্বরঅনেক রাতঅনুভবে তোমার খুব কাছাকাছি আমি
তোমার আমি তোমার মনের ঠিকানাতেই আছি সময় পেলে একটু দেখে যাও,
মহামায়া বেনিয়া কলোনির অব্যবহৃত ঘরের রুদ্ধ বাতাসে
আবগাহন তুলসীতলায় পুতুল খেলার ব্রত আমি হইনি অবনত
মেমো মাঝরাতের মিথ্যার চাদরে সকালও ঢেকেছে নিজেকে
কইয়া দিমু আমাগো দ্যাশের জ্ঞানপাপীগো ইতিহাস চর্চার ধরন দেইখ্যা
সম্পূরক সত্যবীজ গোপন করে মিথ্যাচারা রোপন করে
অন্তরঙ্গ মনের কোণে লুকিয়ে প্রিয় স্মৃতি আপন মনে লালন করো একা
কবিতা ফোটাক ফুল কবিতায় হোক মায়ের আরতি কবিতা ফোটাক ফুল
ভুলোমন মনের কথা মনের মতোই করে কি যায় বলা?
অনুনাদ কন্ঠে মুক্তির দামামা স্লোগানে স্লোগানে নৃত্য
প্রস্থান নিজকে নিজে ছাড়িয়ে গিয়ে দূর নিলীমায় হারিয়ে গিয়ে
পার্থিব যে পথটি ছিলো দূর্বাঘাসের আমাদের খুব চেনা,
সেতুবন্ধন সেতু মানে বন্ধন মিলন সংযোগ বিচ্ছিন্নতাকে জোড়া দেয়া
সুহাসিনীর প্রতি একরাশ আলো ছড়িয়ে দিয়ে দৃষ্টির উচ্ছ্বলতায় আর ভূবনমোহিনী হাসিতে
বিষবৃক্ষের বিরুদ্ধে একাত্তরের শপথ শোনো বাংলাদেশ, আবার শোনো! মাটির নিচে কান পাতলে আজও কি শুনতে পাও সেই পদধ্বনি, সেই অগ্নিমন্ত্র, সেই বজ্রকণ্ঠ, যে কণ্ঠ একদিন নিদ্রিত বাংলার শিরায় শিরায় স্বাধীনতার বিদ্যুৎ জ্বেলে দিয়েছিল? শুনতে পাও কি সেই অমোঘ উচ্চারণ, যার অভিঘাতে কৃষকের লাঙল থেমেছিল, শ্রমিকের হাত মুঠো হয়েছিল, ছাত্রের চোখে জ্বলে উঠেছিল অগ্নি, আর কোটি মানুষের বুকের ভেতর জন্ম নিয়েছিল একটি শব্দ, স্বাধীনতা? সেই শব্দ কোনো কাগজে লেখা ছিল না, কোনো সিংহাসনের দান ছিল না, কোনো বিদেশি ক্ষমতার অনুমোদন ছিল না; সে শব্দ জন্মেছিল মানুষের রক্তে, মানুষের অশ্রুতে, মানুষের অদম্য প্রত্যয়ে। সেই শব্দের নাম বাংলাদেশ। কিন্তু স্বাধীনতার ভোরের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল অন্ধকারের একদল প্রহরী। তারা বাংলার মানুষকে মানুষ বলে মানেনি, বাংলার ভাষাকে ভালোবাসেনি, বাংলার মাটিকে আপন বলে গ্রহণ করেনি। তারা বিদেশি শাসকের ছায়ায় দাঁড়িয়ে নিজের দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিল, ঘরের দরজা দেখিয়ে দিয়েছিল ঘাতককে, প্রতিবেশীর নাম তুলে দিয়েছিল মৃত্যুর তালিকায়, আর ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম রাতে তারা ভেবেছিল বন্দুক দিয়ে একটি জাতির আত্মাকে হত্যা করা যায়। তারা ভুল করেছিল। মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে হত্যা করা যায় না; ঘর পোড়ানো যায়, কিন্তু স্বপ্ন পোড়ানো যায় না; একটি প্রজন্মকে রক্তাক্ত করা যায়, কিন্তু একটি জাতির চৈতন্যকে চিরদিন বন্দী রাখা যায় না।
গুন্ডাদের খেলাঘর বিশ্বের আকাশ আজ দমবন্ধ গুমোট- ট্রাম্পের দম্ভ, পুতিনের লৌহচোখ,
অভিযাত্রী তোমরা যেসব দরজায় লাল কালি দিয়ে লিখে দাও-
ধ্যাৎ তোমার এখন কলাপাতার সবুজ রঙের ষোলো আমার যদি একুশ কিংবা খুব বড়জোর সাতাশ হতো!
এসো মানুষ, মানুষ হই! এই একবিংশ শতাব্দীতে, যখন মানুষের চোখ
চলো, আবার শৈশবে ফিরি চলো, আবার শৈশবে ফিরি। এই ক্লান্ত শতাব্দীর ধুলো
মানুষ নামের যুদ্ধবাজ জানোয়ার তোমরা নিজেদের মানুষ বলো,আমি আর বিশ্বাস করি না।
অনন্ত প্রতীক্ষার অর্ঘ্য তোমাকে দেখিনি কখনো তবু কেন মনে হয়
বিষাদ জানালার ওপারে যে জানালায় অসংখ্য সূর্যাস্তের রক্তিম সাক্ষর, সেই কাচেই একদিন
ফিরে এসো, প্রিয়তমা সময়ের এই ক্রান্তি লগ্নে বড্ড বেশি প্রয়োজন ছিলো তোমাকে, প্রিয়তমা।
এবং পরোয়ানা তোমরা মৃত্যুকে ভয় পাও বলে সত্য থেকে দূরে থাকো।
অপরিশোধিত চার লাইন পুশ-টক কেষ্ট যদি নিজের কতাই
গল্পজীবী ইষ্ক-অন মহাগুরু প্রভু পেদে কয় চাঁদ তাঁর আগুনের গোলা মনে হয়
মেঘ-সওদা তোর ওখানে সেই কতদিন বৃষ্টি আসেনি তোর আঙ্গিনা বাদল ধারায় মিষ্টি হাসেনি
প্রশান্তরা ভালো থাকে তৃতীয় বিশ্বের তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক আমি আমার কি আমিত্ব করা সাজেরে, প্রশান্ত!
তুমিও মনিপুরে গ্যাংরেইপে ছিলে কী হবে কবিতা পড়ে? কিংবা সুশীল বাক্যালাপে
বেতালের তুই তুই এতোটা বোকা কেন বলতে পারিস হঠাৎ হঠাৎ কথায় কথায় মান অভিমান
নির্লজ্জ গায়ে যতোই পর্দা লাগাই চোখ কি তোগো মানে?
আহঃ লোম! মানহীন লোম যতো বগলে বা উরুতে
খাচ্ছি সবই খাবার জন্যই যেন জন্মেছি আমরা খাদ্য-চক্রের অংশ ছাড়া আমরা কিছুই না
চান্দের কান্ধে কেউ কেউ চাঁদে যায় ধুলাবালি ঘাঁটতে
স্বপ্ন নিবি? স্বপ্ন আছে আমার কাছে, লাগলে নিয়ে যাস স্বপ্ন বুনেই মানব জমিন ভরছি বারোমাস
আগমনী তুমি এসেছিলে, তাইতো সকাল সূর্য এনেছে ডেকে তুমি এসেছিলে বলেই এখনো পথটা যায়নি বেঁকে
শব্দ চাষ একখন্ড উর্বর উচু জমির সন্ধান দিতে পারো কেউ? বারোমাস কবিতা চাষ করবো।
দ্য সুরত : ল্যাঞ্জাস আর আউট যতোই দ্যাহাও জারিজুরি যতোই কতার বাহাদুরি
yet to die yet to learn a lot from life yet to go on a very long drive
দ্য ম্যানিম্যলস্ আমরাকি শুধুই স্তন্যপায়ী মেরুদন্ডী অ্যানিম্যল? সম্ভবত এর চাইতেও ঢের অধিক কিছু
একাবেকা একাবেকা ডামিডেমি লবালছা ছিঁড়ছে
একা পোশাকের বর্ণীল চাকচিক্যে যতোই ঢেকে রাখি নিজেকে
অন্তরঙ্গ মনের কোণে লুকিয়ে কিছু স্মৃতি আপন মনে লালন করো একা
একুশ একুশ তুমি প্রদীপ্ত চেতনায় আগুন জ্বালিয়ে কৃষ্ণচূড়ার ডালে
ছিঃ বায়ো(লজি) হচ্ছে ঢালা দেধারছে জল হচ্ছে না তাও ঠান্ডা
কৌটালাপ! এক: আপ্নে জানি কীসের কোটা! মামার নাকি খালুর?
ভেজাল আমি একা একা কতোটা পথ পাড়ি দিয়ে আজ তোমাদের সামনে বিরাজমান যে আমি
যাবো হেসে হেসেই ভেসে যাবো অচিন সমুদ্দুরে
আমিও কবিতা যদি তুমি ধ্বনিতে প্রাণ সঞ্চার করতে পারো তোমার উচ্চারিত প্রতিটি স্বরধ্বনিও
GitoPrito (গীত-প্রীত) Tagore's Gitanjali; My Tripitaka, my Vedas
ছাড়/ষাড় কী? আমগো ট্যাহায় আমগো সেবায় করো হালার চারকি
Turtle-Dove : Love Immortal You and me both are in love Only God knows we're turtle-dove
রুখে দাড়াও দেশপ্রেমিক সূর্য সেন-এর সেনানীরা সব দল বেঁধে এসো সকলে
পুরো হিট আমি পুরোহিত হলে পুরোই হিত হতো চতুর কথামালা মধুর গীত হতো
নে ত্যানা ত্যানারা ন্যাতা হোলে ন্যাতাতো ত্যানাবেই কথার ফুলঝুড়ি মুখেতো ফ্যানাবেই
অনিন্দ্য সিদ্ধার্থ তুমি ছাড়া আর কারো প্রতি আমার কেন যেন পূর্ণ ভক্তি আসে না
মা, তোকেই ভালোবাসি এক যে সময়, সেই সময়ে বাংলা মায়ের কোল জুড়ে
হীন সুখে হিংসুক হিংসা এবং জ্বলন নিয়ে পাছে লোকে কতোকিছুই বলে
লজ্জ্বা যে দেশে বিজ্ঞান শিক্ষাদানের অপরাধে(!) শিক্ষককে জুতারমালা পরানো হয়
অবতার ভ্রান্তি আমার ছিলোনা কিছুই তোমায় পাবার মাঝে
ভ্রম ন সত্যপথে বাঁধা হয়ে থাকে গাঁধা অপূর্ণতায় পূর্ণতা ভেবে আজীবন থাকে আঁধা
গল্পখেকোদের গান ওরা গল্প শুনে গল্প শুনায় গল্পে গল্পে গল্প বুনায়
ফুলস্টপ সব বোঝা শ্যাষ সব জানা যদিও হয় নাই
তুমিও ওদের দলে ছিলে কী হবে কবিতা পড়ে? কিংবা সুশীল বাক্যালাপে
স্বাগত আসি আসি করে কেন আসছো না কাছে বলি বলি করে কেন বলছো না সব
যাবে যদি চলো তোমরা যাবে যদি চলো পুকুরিয়া বিলের ধারে গগমা
কিচ্ছু চাইনা এই সোনার দেশে কারোর কাছে কিচ্ছু চাইনা
প্রকাশ্য প্রকাশ্যে জোচ্চুরি, জালিয়াতি, ধান্ধা অবৈধ ব্যবসার ধুম
লোকান্তর যে লোকালয়ে লোকেদের মনোজগতে লুকানো শুধু লোভ লালসা স্বার্থপরতা
কোটা জিন্দাবাদ [সঙলাপ] যদু: চৈত্র মাসে গাছে গাছে
অহং তোমাদের সবার প্রতি অনেক অনেক কৃতজ্ঞ আমি তোমরা কখনো আমাকে অবিশ্বাস না করলে
চ ছ দ ধ হাতেগোনা সিঁকিভাগ গেজেটেড ছাড়া যা দেহি তা ভুলভাল কোটা ফাঁসে খাড়া
সমাচ্ছন্ন কোথাও একটা হচ্ছে যেন ভুল কানাগলির কানামাছি খেলায় মাতে শিশু
কোটাজট কেনো যে বোকারা সব কোটা নিয়ে কোন আবেগে শুধুশুধু জীবনটা দানো,
স্বাধীনতা আছে? একাত্তরে পাকিরা জিতলে শহীদ মিনারের স্থানে মসজিদ নির্মিত হতো
খচ্চরায়ন চিলে কান নিলো শুনে কেউ নাচে হুজুগে তিলে তাল ঢাল করা কেউ থাকে সুযোগে
সত্যের সুখ খোঁজো কিছু মানুষ আসে জিততে কেবল ছলনাকে করে ভর
পুনশ্চঃ কখনো ভূলুণ্ঠিত, কখনো রক্তাক্ত, কখনো দগ্ধীভূত বিশ্বাসের পবিত্রগৃহ, ধর্মগ্রন্থ, ত্রাতার ভাস্কর্য
Rules, Bulls and Fools Rules are made for Bulls and Fools
কিংবদন্তি মুজিব তোমার প্রশস্ত বুকে ধারণ করেছিলে এ মানচিত্র আর এ মানচিত্রের পুরোটা জুড়ে ছিলে তুমি
প্রদ্যোতেশ্বর আমি জেনে গেছি ব্যাটা ঈশ্বর, তুমি ভালো নেই
পুরনো খতিয়ান তোমরা মতাদর্শ তৈরি করলে আমরা বিমোহিত হলাম
গিট্টু-ফটাশ কে যে কীসে আটকায়? কোন চিপা ফাঁকটায়
উজবুকিস্তান এখানে উজবুকিস্তান নামে একটি দেশ ছিল। এত উর্বর সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা ভূমি পৃথিবীতে খুব কমই সৃষ্টি হয়েছে। নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলে পাললিক ভূমি বীজের অঙ্কুরোদগমের জন্য সবচেয়ে উপযোগী বলে এখানে সবকিছুই ছিল ভীষণ উর্বর। ভূমি উর্বর, বায়ু উর্বর, উর্বর জল, কীট, পতঙ্গ, মাছ, পাখি ও প্রাণিকুল। সবকিছুই দারুন রকমের উর্বর! আর সবচেয়ে বিস্ময়কর রকমের উর্বর ছিলো এখানকার হোমো স্যাপিয়েন্সরা। বীজ ক্ষেত্রে পতন মাত্রই অঙ্কুরোদগম! গিজগিজ করত হোমো স্যাপিয়েন্স এখানে। হাটে, মাঠে, বাজারে, বন্দরে, শহরে ভীষণ গাদাগাদি। উর্বরতার চূড়ান্ত সীমায় ছিল এখানকার হোমো স্যাপিয়েন্সগুলো। এগুলোর মস্তিষ্ক ছিল ততোধিক উর্বর। কোন তথ্যের বীজ মস্তিষ্কে পৌঁছানো মাত্রই অঙ্কুরোদগম ঘটিয়ে ডালপালা বিস্তার করে বিশাল মহীরুহ তৈরি করে ফেলত। বায়ু উর্বর হওয়ায় মহীরুহের পুষ্পরেণু নিমেষেই ছড়িয়ে যেত অতি উর্বর যাবতীয় পরিপার্শ্বে। তারপর আর পায় কে! তথ্য বহুমাত্রিক তথ্যাতি তথ্যের জ্যামিতিক অঙ্কুরোদগমে ঘটাতো তথ্যবিস্ফোরণ! গুজবোম! আর বিস্ফোরণের ফল? ধ্বংস! হ্যাঁ, এটাই ঘটেছিল এখানে। অতি উর্বরতায় জন্মেছিল আগাছা। এরপর আগাছা খেয়েছে ফসল, মাঠ, ঘর, দরজা, বিছানা, উপসনালয়, বিদ্যালয়, শ্মশান ও সমাধি। প্রদ্যোত
একটা আমি একটা আমি'র কষ্ট ভীষণ, একটা আমি সুখে একটা আমি সব হারিয়েও থাকছে হাসিমুখে
অযথাই তোমার তেজে যাহার পোড়ে তার কাছে যাও কীসের ঘোরে
শোধবোধ আগুন দিয়ে কি আগুন নেভানো সম্ভব কোনো কালে?
অতিক্রম অসীম সীমায় হারিয়ে যাওয়া নিজকে নিজেই ছাড়িয়ে যাওয়া
যা! সব নিয়ে যা! তোমরা আবার এসেছো? আবার! দরজা খোলা আছে, ভেতরে যাও
এসো সুরের সাথীএসো সুরের সাথীএসো গাই জীবনের গান
প্রেমানুভবে ঈশ্বর অনেক রাত অনুভবে তোমার খুব কাছাকাছি আমি
রুদ্র হয়ে এসো আর একবার [রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ স্মরণে] তুমি চৌত্রিশে যা পেরেছিলে
লুসিফার তোমাদের কারো সাথে কোন প্রকার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার
সেইফ-সাইডারস নিজকে নিয়ে সেইফ সাইডে চেঁচাই সেরে জুতো
মেয়ে, তোমার মেয়ে হওয়াই পাপ? ছোকড়া বুড়ো যাচ্ছে সবাই প্রেমের স্রোতে ভেসে,
কলির জঞ্জাল হায়রে কলি কাল রে তিলগুলা হয় তাল রে
কোটা টোকাই কোটার অ্যাগেইনস্ট কটকটাইয়া টিকটকার আর টোকাই
Thank You, God! As I’m not an inactive guy As I don’t fear anything to try
রুখে দাঁড়াও দেশপ্রেমিক সুর্যসেনের সেনানীরা সব দল বেঁধে এসো সকলে
বীর হও ললনা নারী তুমি চার দেয়ালে থাকবে কেনো নিজেকে অন্তরালে রাখবে কেনো
এই নষ্ট পৃথিবী আমার নয় যে পৃথিবী হবার কথা ছিল প্রতিটি নিষ্পাপ শিশুর
সিদ্ধ/নিষিদ্ধ? লংকা পেলে রাবণ সবাই নিত্যনতুন আইনে কসাই
কথা বলো দেখছো না কিছু, শুনছো না কিছু বলছো না কিছু বলে
চিরায়ত সরলতা জন্মাবধি সরল থেকেছি বলেই ওরা সবাই ফয়দা লুটেছে বহুবিধ ভাবে
অর্বাচীন আমি সীমানা বুঝিনা, প্রাচীর বুঝিনা বুঝিনা কাঁটাতারের বেষ্টনী, রাষ্ট্র ব্যবস্থা
ভাঙো ভাঙো, যতো নির্মান বিশ্ববিধান ভাঙো ভাঙো অবয়ব, যতো যা দৃশ্যে
ঝাক্কি দিয়া ওঠ্! টকটকা লাল রক্তের বইন্যায় দ্যাশটারে গোসল করাইয়া দিয়া ভাবছিলাম
উহঃ পোদ ড্যাশটা উপদেষ্টা ছিড়ে কেশটা বেঁচে দেশটা খেলো শেষটা
খ্যাতাপোড়া গণতন্ত্র গণতন্ত্রের গণেগো কি গোণে কোনো নেতা?
বিধ্বস্ত ভোরে জন্ম নেওয়া দিগন্ত ঝড়ে দুলে ওঠা বাংলার বুকের ভেতর, যখন রক্তের ঢেউ ছাপিয়ে উঠেছিল আকাশ,
শব্দিত তুলি বইয়ের অক্ষর-অবসাদে যখন ডুবে যায় তোমার দৃষ্টি,
১৪ ডিসেম্বর: চোখ বাঁধা সূর্যদের অসমাপ্ত ভোর ১৪ ডিসেম্বর- একটি তারিখ নয়,
স্বাধীনতা কি এতই সস্তা? একাত্তরে পাকিরা জিতলে শহীদ মিনারের স্থানে মসজিদ নির্মিত হতো,
অশ্রুর শেষ আশ্রয় অযুত ব্যথার ধুলো মেখে দিনগুলি আজ কেমন ক্লান্ত হয়ে যায়-
সূর্য দেখেছো?ধ্যাৎ! কি জিজ্ঞেস করছি!
The Ray Have you seen the sun? Absurd-what am I asking!
প্রত্যাবর্তন আকাশের বুক চিরে যেদিন সূর্য আবার নিজের নাম উচ্চারণ করেছিল,
যে সূর্য অস্ত যায় না কখনোআজ নীরবতার কপালে একফোঁটা রক্তের তিলক-মাস্টার দা সূর্য সেনের প্রয়াণ দিবস।
আগমনী তিনি আসবেন- হ্যাঁ, আবার আসবেন।
গুরুচণ্ডালী দেখিলাম পৃথিবী! এক বিশাল মেলা, নাম তার সভ্যতা!
নীল গ্রহের আর্তনাদ এই যুদ্ধ কি থামবে কোনোদিন? মানুষ কি শুনবে কখনো
আদির অনন্তযাত্রা নিস্তব্ধতার এক নামহীন প্রান্তরে আমি দাঁড়িয়ে আছি-
Procession of the Quiet Brave Along the breathing road of earth they walk-
আলোর শিশু একটি কলি ফুটেছিলো সবুজ-শ্যামল দেশে,
২৫ মার্চ আজ এখানে অনেকের আনাগোনা শোকের পোশাকে সুগন্ধির প্রলেপ
Before The Last Light Blaze In that blue-lit gaze, a quiet verdict glows not thunder, not flame,
April 5 The sky is no longer silent- It cracks, it burns, it counts.
আলোর পথিক আলোর পথযাত্রীর কাছে পৃথিবী কখনো কেবল পথ নয়,
নিমন্ত্রণ তুমি যে নৈঃশব্দের ভেতর নিজেকে গুটিয়ে রেখেছ, সেখানে এখনো বাতাস থেমে নেই-
তখন ভালোবাসা পালায় সন্ধ্যা যখন ধীরে ধীরে জানালার কাঁচে আঙুল রাখে,
ফেরারী আমি এখন আর ফেরার পথ খুঁজি না- বরং ভেঙে ফেলি নিজের ভিতরের সব দরজা,
চুক্তির শুয়োর কিংবা শুয়োরের চুক্তি রাতের আঁধারে নকশা আঁকে কারা? কালির দাগে দেশ, রেখার ভেতর বাঁধা মানচিত্র,
বীর হও ললনা নারী তুমি চার দেয়ালে থাকবে কেনো নিজেকে অন্তরালে রাখবে কেনো
অগ্নিদেবীর প্রতি [রাত্রির অন্ধকারে যিনি জ্বালিয়েছিলেন সূর্যের প্রতিজ্ঞা]চট্টগ্রামের মাটি তখন কাঁপছে,
তুমি আছো বলে.. তুমি যখন আমার মধ্যাহ্নের পথে এসে দাঁড়ালে, তখন আমি বুঝলাম- জন্ম শুধু একবারের নয়, অনুভূতির ভেতর জন্ম নেয় মানুষ বারবার। সেই বহুদিন আগে তোমার আগমনী যেমন আমার তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে খেলেছে আবেগী উচ্ছ্বাস, তোমার জীবনেও স্বপ্ন-মোহাচ্ছন্নতায় তেমনি আমার অনুপ্রবেশ। তোমার চোখের গভীরে আমি দেখেছি আমারই আরেকটি জন্মের সম্ভাবনা, এক নতুন পৃথিবীর দরজা, যেখানে আমি আবার নিজেকে খুঁজে পাই- আরো পূর্ণ, আরো দীপ্ত, আরো সাহসী। তুমি ছিলে বলেই হয়তো এমন এক আশ্চর্য নির্ভরতার আলো নিয়ে এলে, যা আমার ভাঙাচোরা দিনগুলোর উপর নিঃশব্দে জেগে ওঠে। তুমি আছো- এই একটি সত্য আমার শিরায় শিরায় বয়ে যায় অনন্তকালের মতো। মনে হয়, সময়ের কোনো শেষ নেই, মৃত্যু কোনো শেষ নয়- কারণ তুমি আমার পাশে আছো। তোমার অস্তিত্বই যেন আমার জন্য এক অবিনশ্বর প্রতিশ্রুতি।
অশ্রুর শেষ আশ্রয় অযুত ব্যথার ধুলো মেখে দিনগুলি আজ কেমন ক্লান্ত হয়ে যায়-
নিভে যাওয়া শৈশবের আলো (এক নীরব কান্নার কথকতা) রঙিন ঘরের কোণে যেখানে হাসি ফুটে ওঠার কথা ছিল
চৈতন্যের অনন্ত আলোকশিখা যখন পৃথিবীর ক্লান্ত বিকেলে মানুষ নিজের ভেতরের মানুষটিকে হারিয়ে ফেলে,
ম্যান্ডেটের অগ্নিশপথ মানুষের মনোনয়ন নিয়ে তাদের মনকে বিষিয়ে নয়নে অশ্রু ঝরিয়ে
মিথ্যার মেগা মার্কেট অ্যাদে হালারপো হালারা, তোগো দেইখা অ্যাহোন শিয়ালও লজ্জা পায়!
রামিসার জন্য এই নষ্ট পৃথিবী নয়! এই পৃথিবী তোর ছিল না মা রামিসা, এখানে ফুল ফোটার আগেই
অসভ্যাধীনতা কতবার কত তাজা প্রাণ গেল স্বাধীনতা এনে দিতে বুভুক্ষা এসে সে বিজয় খেলো মিথ্যার রজনীতে
প্রত্যাবর্তনধূসর সময়ের শেষ প্রহরেযখন নদীগুলোও ক্লান্ত হয়ে
কুলাঙ্গার তাহারাই বোঝে, আগেও বুঝেছে তোমাদের আছে ঢের,
পাললিক ভূমির গীতা : পর্ব (০০১) (কৃষ্ণ ও অর্জুনের সংলাপ) অর্জুন:
ঝাক্কি দিয়া ওঠ্ ২.০ রুখে দাঁড়া, বাংলার জুয়ান! রক্ত দিয়া কেনা দ্যাশ,
চে : অগ্নিযুগের মহাকাব্য চে- নাম নয়,
আমি প্রকৃতি বলছি আমি প্রকৃতি বলছি। আমি সেই আদিম জননী,
সত্য শ্রীকান্ত অধর্মের অভ্যুত্থানের পূর্বাভাসে মানবতার ত্রাতা হয়ে
বৃক্ষোপনিষদ (নীরব সবুজের কাব্য) প্রথম সর্গ (আদিবীজ) মন্ত্র:
বন্দিশালার বাইরে যে আকাশ যেদিন প্রথম কোনো নারী বুঝেছিল- তার জানালার ওপাশে যে আকাশটি নীল হয়ে আছে, সেটি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, সেদিনই ইতিহাসের প্রথম কারাগারে একটি অদৃশ্য ফাটল ধরেছিল। সেই ফাটলের শব্দ কেউ শোনেনি; কারণ পৃথিবী তখনও পুরুষের উচ্চারণে এতটাই মুখর ছিল যে নারীর নীরবতার ভাঙনকেও তারা নীরবতাই ভেবেছিল। অথচ প্রতিটি ইটের নিচে, প্রতিটি অলিখিত নিষেধের গভীরে, প্রতিটি দীর্ঘশ্বাসের গোপন কুঠুরিতে একটি নদী জন্ম নিচ্ছিল। নদীরা কখনও অনুমতি নিয়ে সাগরে যায় না। তোমাকে ছোট করে রাখার জন্য তারা কত রকম ভাষা আবিষ্কার করেছে! কখনও ধর্মের ভাষা, কখনও সংস্কারের, কখনও লজ্জার, কখনও ভালোবাসার ছদ্মবেশ। তারা তোমার চারপাশে প্রাচীর গড়েছে, অথচ প্রাচীরের নাম দিয়েছে নিরাপত্তা। তারা তোমার ডানাগুলো কেটে বলেছে, এটাই সৌন্দর্য। তারা তোমার পদক্ষেপ আটকে বলেছে, এটাই মর্যাদা। তারা তোমার স্বপ্নকে গৃহস্থালির হাঁড়িতে ঢেলে বলেছে, এই আগুনেই পৃথিবী টিকে থাকে। কিন্তু পৃথিবী কি কখনও একটিমাত্র আগুনে জ্বলে? পৃথিবী তো জ্বলে লক্ষ সূর্যের উত্তরাধিকার নিয়ে।
অহং থেকে অনন্ত আজ তোমাদের সকলের প্রতি আমার অসীম কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছি
ভাঙার আগে ভাঙো- যদি ভাঙতেই হয়, তবে আগে ভাঙো
বাংলাদেশ এ মাটি শুধু মাটি নয়- এ এক অনাদিকালের উচ্চারণ,
ক্রোধের উত্তরাধিকার একটা অপরাধ দিয়ে আরেকটা অপরাধকে ঢেকে রেখো না-
নিজের পথের পথিক তোমার প্রিয় যে পথ- সেই পথের ধুলোয় যদি তোমার পদচিহ্নের মতো কোনো পদচিহ্ন এসে মিশে যায়, তাকে সঙ্গী করো। যে পথিক তোমার আকাশের দিকে তাকিয়ে একই নক্ষত্রের ভাষা পড়ে, যে অন্ধকারের বুকেও আলোর জন্মের শব্দ শুনতে পায়, যে তোমার নীরবতার ভিতরেও একটি অদৃশ্য বাঁশির সুর চিনে ফেলে- তার হাত ধরো। কিন্তু যে তোমাকে তোমার পথ থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে চায় তার পথের ধুলো কপালে মেখো না। সব পথের গন্তব্য এক নয়, সব নদী সাগরে মেশে না একই মোহনার ভিতর দিয়ে, সব নক্ষত্রের আলো একই জানালায় এসে পড়ে না। কেউ পাহাড়ের সন্তান- তার পায়ে পথের বদলে পাথরের ভাষা; কেউ নদীর সন্তান- তার শিরায় শিরায় ভাসে স্রোতের উন্মাদনা; কেউ মরুভূমির যাত্রী- তার চোখে মরীচিকারও একটি নিজস্ব আকাশ। তুমি কেন তাকে তোমার মতো নদী বানাতে চাও? নদীকে নদী হতে দাও, পাহাড়কে পাহাড়, বৃক্ষকে বৃক্ষ, পাখিকে তার নিজস্ব আকাশ।
রক্তাক্ত ভোরের অমর সূর্য (পনেরো আগস্টের শোকগাথা) রাত তখনও ভোরের কাছে
ঈশ্বর ভালো নেই আমি জেনেগেছি, ঈশ্বর, তোমার আকাশেও আজ অন্ধকারের শেকড় গজায়; তোমার অনন্তের বুকেও সময়ের করাত চলে, তোমার অমরত্বের কপালেও ক্ষয়ের কালো অক্ষর। আমি জেনে গেছি, অবিনশ্বর বলে কিছু নেই; নেই কোনো চিরস্থায়ী সিংহাসন, নেই কোনো অক্ষয় সাম্রাজ্য, নেই কোনো অনন্ত প্রাসাদ, নেই কোনো অপরিবর্তনীয় বিধান, নেই কোনো নাম, যাকে সময়ের দাঁত একদিনও ছুঁতে পারবে না। যা জন্মেছে, তার ভেতরেই মৃত্যুর প্রথম বীজ; যা জ্বলে, তার শিখার অন্তর্গত নিভে যাওয়ার নিয়তি; যে ফুল ফুটেছে, তার পাপড়ির ভাঁজে ভাঁজে ঝরে পড়ার ভবিষ্যৎ; যে নক্ষত্র আজ অন্ধকার ভেদ করে আলো পাঠাচ্ছে, তার বুকেও কোটি কোটি বছরের নিভে যাওয়ার সংবাদ। তবু মানুষ অমরত্বের লোভে পাথরের ওপর নিজের নাম খোদাই করে, তারপর ভাবে, নামটিই বেঁচে থাকবে। হায় মানুষ! সময় পাথরও খায়, সময় মন্দিরও খায়, সময় রাজদণ্ডও খায়, সময়ে শাস্ত্রের অক্ষরও ক্ষয় করে; সময় একদিন ঈশ্বরের ধারণাকেও মানুষের মস্তিষ্কের প্রাচীন কুয়াশা থেকে নতুন অর্থে জন্ম দেয়। আমি তাই তোমার কাছে অমরত্ব চাই না; আমি চাই সত্যের কাছে একটি জ্বলন্ত জীবন, আমি চাই বিবেকের কাছে একটি নির্ভীক আত্মসমর্পণ, আমি চাই মানুষের দুঃখের সামনে আমার সমস্ত অহংকার ছাই হয়ে যাক। কারণ বিবেকের চেয়ে বড় কোনো মন্দির নেই, সত্যের চেয়ে পবিত্র কোনো শাস্ত্র নেই, মানুষের অশ্রুর চেয়ে গভীর কোনো তীর্থ নেই, অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি সোজা মেরুদণ্ডের চেয়ে উজ্জ্বল কোনো প্রার্থনা নেই। আমি দেখেছি, মানুষ ঈশ্বর বানায়, তারপর ঈশ্বরের নামে নিজের মানুষটাকেই হত্যা করে; মানুষ শাস্ত্র লেখে, তারপর শাস্ত্রের অক্ষর দিয়ে মানুষের গলায় দড়ি বাঁধে; মানুষ পুণ্য বানায়, তারপর পুণ্যের মাপে অন্যের রক্তকে পাপের চেয়েও সস্তা করে; মানুষ স্বর্গ বানায়, তারপর সেই স্বর্গের টিকিট বিক্রি করে মর্ত্যের বাজারে। আমি দেখেছি, ধর্মের পোশাকে লোভ হাঁটে, পুণ্যের মুখোশে ক্ষমতা হাসে, প্রার্থনার ঠোঁটে ষড়যন্ত্র জমে, আর ঈশ্বরের নামের আড়ালে মানুষ মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সাজায়। তখন আমি তোমার দিকে তাকিয়ে প্রথম প্রশ্নটি করেছিলাম, কোথায় তুমি? যখন শিশুর পেটে ক্ষুধা কাঁদে, কোথায় তুমি? যখন মায়ের বুক সন্তানের লাশে পাথর হয়ে যায়, কোথায় তুমি? যখন নিরস্ত্র মানুষের বুকে গুলি ঢোকে, যখন ঘর পুড়ে যায়, যখন নদী রক্ত বহন করে, যখন ইতিহাস বিজয়ীর কালি দিয়ে পরাজিতের কান্না মুছে দেয়, তখন কোথায় তুমি? নাকি তোমারও কোনো অজুহাত আছে? নাকি তুমিও মানুষের মতো নিজের অনুপস্থিতির জন্য একটি পবিত্র ব্যাখ্যা বানিয়ে রেখেছো? আমি উত্তর পাইনি; কিন্তু উত্তরের চেয়ে বড় একটি জিনিস পেয়েছি, প্রশ্ন। আর সেই প্রশ্ন আমার ভেতরে প্রথম বজ্রপাত হয়ে নেমেছিল। সেদিন থেকে আমি আর অন্ধকারকে ঈশ্বর বলে মেনে নিইনি।
দেহের ভিতর যে আকাশ তোমাকে ছুঁতে গিয়ে আমি প্রথম স্পর্শ করেছিলাম পৃথিবী,
রাষ্ট্রের কাছে স্বাভাবিক মৃত্যুর দাবি স্বাভাবিক জীবন দিতে যখন ব্যর্থ হচ্ছ, রাষ্ট্র, অন্তত স্বাভাবিক মৃত্যুটুকু দাও!
ঘুম নেই সেই কবে, কোনো এক বিস্মৃত ঋতুর গভীর প্রহরে, জাগতিকতার ভুলভাল ব্যারিকেডগুলো একে একে ভেঙে, সমস্ত হিসাব নিকাশ, দেনা পাওনা, সামাজিক ভদ্রতার কৃত্রিম মুখোশ, মানুষের বানানো অসংখ্য জরুরি কাজ আর অপ্রয়োজনীয় কর্তব্যের পাহাড় পেরিয়ে আমি একবার ঘুমের পথে গিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, পৃথিবী থেকে সাময়িক নির্বাসন নিয়ে এবার আমি নিজের ভেতরে ফিরব। চোখের পাতার নিচে যে অন্ধকার জমে থাকে, তারও তো একটি নিজস্ব মহাবিশ্ব আছে। সেখানে কোনো কর আদায়কারী নেই, কোনো শাসক নেই, কোনো প্রশ্নপত্র নেই, কোনো উত্তর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। শুধু নিঃশব্দ এক সাগর। তার জলে ডুবে গেলে মানুষ নিজের নাম, পরিচয়, পেশা, ব্যর্থতা, সাফল্য, অপমান, অহংকার, সবকিছুকে তীরে ফেলে রেখে কেবল একটি প্রাণ হয়ে থাকতে পারে। নিবিড় তন্দ্রার সেই আদিম আলিঙ্গনে শরীর যখন ধীরে ধীরে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ ভুলে যাচ্ছিল, যখন চেতনার দরজায় এসে দাঁড়িয়েছিল নীল অন্ধকারের কোমল দূত, যখন মনে হচ্ছিল, আর একটু পরেই আমি সমস্ত শব্দের ওপারে চলে যাব, সমস্ত কোলাহলের নিচে নেমে যাব, নিজের আত্মার গোপন কূপ থেকে এক মুঠো নির্মল জল তুলে মুখে দেব, ঠিক তখনই তোমরা এলে।
স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা দাও, রাষ্ট্র! স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চয়তা দিতে যখন ব্যর্থ রাষ্ট্র, তখন অন্তত স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা দাও।
পৃথিবীর অসংখ্য প্রার্থনার ধোঁয়াউঠে গেছে আকাশের দিকে,অসংখ্য গম্বুজ, শিখর, মিনার, ঘণ্টাধ্বনি
মানুষ, তুমি কি এখনও সেই অন্ধ গুহার সন্তান,
যেদিন শেষ হবে আমার ভেতরের শেষ দ্বিধার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া,
A free verse manifesto born from rage, moral exhaustion, and the refusal to remain silent in the face of corruption, violence, and institutional hypocrisy.
The day the funeral of my final hesitation comes to an end within me,
খা- আরও খা! মানুষ খা, মানুষের ভাত খা,
আমি এসেছি অ্যামিবার ভেজা শরীর ভেদ করে- এককোষী নিঃসঙ্গতার আদিম জঠর থেকে, যেখানে প্রথম জেগেছিল
সুকান্ত মরে না। মৃত্যুর ক্যালেন্ডারে তারিখ বদলায়, কিন্তু আগুনের বয়স বাড়ে না কখনো।
আমাকে একটি গালিকার্ড দাও! হ্যাঁ, ঠিক শুনেছ- এই সভ্যতার সার্কাসে
রক্তমাখা পথের ধারে আজও পড়ে আছে ছোট্ট এক জুতো, মায়ের বুকের দুধের গন্ধ না শুকাতেই