← Back to poetry
❧

তখন ভালোবাসা পালায়

Poetry

তখন ভালোবাসা পালায়

সন্ধ্যা যখন ধীরে ধীরে
জানালার কাঁচে আঙুল রাখে,
ম্লান আলোয় ঘরের ভেতর
এক ধরনের অনুচ্চারিত ক্লান্তি জমে-
ঠিক তখনই ভালোবাসা, নীরব পায়ের শব্দে,
দরজার ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়।
কেউ তাকে থামায় না, কেউ ডাকে না-
কারণ ঘরের ভেতর তখন
ইতোমধ্যেই জন্ম নিয়েছে এক অদৃশ্য অসুখ।

অবিশ্বাস।

সে আসে না ঝড়ের মতো,
সে আসে ধুলোর মতো-
অদৃশ্য, অনাহূত, অথচ অবধারিত।
প্রথমে একটুখানি সন্দেহ,
তারপর প্রশ্নের ভাঁজ,
তারপর নিঃশব্দে বদলে যেতে থাকে দৃষ্টির রং-
যেখানে একসময় ভরসা ছিল,
সেখানে এখন কেবল হিসেব, তুলনা,
আর অকারণ আতঙ্ক।

ভালোবাসা আসলে খুব কোমল এক স্থপতি-
সে বিশ্বাসের ইট দিয়ে দেয়াল তোলে,
নির্ভরতার সুরকি মেখে ছাদ গড়ে,
আর ভেতরে ভেতরে রোদ ঢোকার মতো
কিছু স্বপ্নের জানালা রেখে দেয়।
কিন্তু অবিশ্বাস?
সে কোনো নির্মাতা নয়-
সে কেবল ভাঙতে জানে।

একবার সে ঢুকে পড়লে,
মস্তিষ্কের গভীরে তার শিকড় গজায়,
স্মৃতির প্রতিটি কোণে সন্দেহের ছায়া ফেলে।
হাসির ভেতর খোঁজে ফাঁক,
নীরবতার ভেতর খোঁজে ষড়যন্ত্র,
আর ভালোবাসার প্রতিটি স্পর্শে বসিয়ে দেয় প্রশ্নচিহ্ন।

তখন ভালোবাসা আর টেকে না-
সে দম নিতে পারে না এই ভারী বাতাসে,
সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে অবিরাম প্রমাণ দিতে দিতে।
একসময় সে বুঝে যায়-
এই ঘর আর তার জন্য নয়।

তাই এক সন্ধ্যায়,
জানালার আলো যখন নিভে আসে,
ভালোবাসা চুপচাপ দরজা খুলে বেরিয়ে যায়-
পেছনে ফেলে যায় কিছু অর্ধেক কথা,
কিছু ভাঙা প্রতিশ্রুতি,
আর দেয়ালের গায়ে লেগে থাকা
পুরোনো উষ্ণতার দাগ।

তারপর ঘরে থাকে শুধু অবিশ্বাস-
এক অনন্ত ক্ষুধার্ত অন্ধকার,
যে নিজেকেই খেতে খেতে
শেষ পর্যন্ত সবকিছু শূন্য করে ফেলে।

প্রদ্যোত

✦