তুমি আছো বলে..
তুমি আছো বলে..
তুমি যখন আমার মধ্যাহ্নের পথে এসে দাঁড়ালে, তখন আমি বুঝলাম- জন্ম শুধু একবারের নয়, অনুভূতির ভেতর জন্ম নেয় মানুষ বারবার। সেই বহুদিন আগে তোমার আগমনী যেমন আমার তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে খেলেছে আবেগী উচ্ছ্বাস, তোমার জীবনেও স্বপ্ন-মোহাচ্ছন্নতায় তেমনি আমার অনুপ্রবেশ। তোমার চোখের গভীরে আমি দেখেছি আমারই আরেকটি জন্মের সম্ভাবনা, এক নতুন পৃথিবীর দরজা, যেখানে আমি আবার নিজেকে খুঁজে পাই- আরো পূর্ণ, আরো দীপ্ত, আরো সাহসী।
তুমি ছিলে বলেই হয়তো এমন এক আশ্চর্য নির্ভরতার আলো নিয়ে এলে, যা আমার ভাঙাচোরা দিনগুলোর উপর নিঃশব্দে জেগে ওঠে। তুমি আছো- এই একটি সত্য আমার শিরায় শিরায় বয়ে যায় অনন্তকালের মতো। মনে হয়, সময়ের কোনো শেষ নেই, মৃত্যু কোনো শেষ নয়- কারণ তুমি আমার পাশে আছো। তোমার অস্তিত্বই যেন আমার জন্য এক অবিনশ্বর প্রতিশ্রুতি।
কখনো কখনো ভাবি, যদি আবার জন্ম নেই পৃথিবীর কোনো ক্রান্তিকালে, তবে সেই জন্মের প্রথম প্রার্থনার পরে চোখ মেলে যেন তোমাকেই দেখি। যেন তোমার সঙ্গেই শুরু হয় আমার প্রতিটি সকাল, প্রতিটি বিকেল, প্রতিটি নিঃশ্বাসের দীর্ঘ সঙ্গীত। তুমি না থাকলে পৃথিবী কেবল এক বিস্তীর্ণ শূন্যতা- আর তুমি থাকলে সেই শূন্যতাও ভরে ওঠে অগণিত রঙে, অগণিত সম্ভাবনায়।
তুমি পাশে থাকলে, আমি কোনো বাঁধাকে আর বাঁধা বলে মনে করি না। সব প্রতিবন্ধকতা তখন কেবল একেকটি ক্ষণিক ছায়া- যা তোমার উপস্থিতির আলোয় মিলিয়ে যায়। তোমার একটুখানি স্পর্শ, একটুখানি বিশ্বাস, একটুখানি নিশ্চুপ পাশে থাকা- আমাকে এমন শক্তি দেয়, যা দিয়ে আমি পুরো পৃথিবীটাকেই নতুন করে গড়ে তুলতে পারি।
আমিই পারি- এই কথাটা আমি এমনভাবে জানতাম না আগে। তুমি আমাকে শিখিয়েছো, আমার ভেতরে কতটা অজানা শক্তি লুকিয়ে আছে। তুমি আমার সাহস, তুমি আমার অনুপ্রেরণা, তুমি আমার সমস্ত অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলার একমাত্র কারণ।
তোমার জন্যই আমার হৃদয়ে জেগে ওঠে দীর্ঘ জীবনের আকাঙ্ক্ষা- শুধু বেঁচে থাকার নয়, তোমার সাথে বেঁচে থাকার, অন্যের সহায় হবার। তোমার হাত ধরে হেঁটে যেতে যেতে সময়কে হার মানাতে ইচ্ছে করে, অনন্তকালকে ছুঁয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে। যেন প্রতিটি মুহূর্তে আমরা লিখে চলেছি এক অনন্ত প্রেমের ইতিহাস, যার কোনো শেষ নেই, কোনো ক্লান্তি নেই, কোনো বিদায় নেই।
তুমি আছো বলেই আমি আছি- এই সত্যের ভেতরেই লুকিয়ে আছে আমার সমস্ত ভালোবাসা, সমস্ত পুনর্জন্ম, সমস্ত অনন্তকাল..
প্রদ্যোত / ০৫ মে ২০২৬