বিদ্রোহের ইশতেহার
বিদ্রোহের ইশতেহার
যেদিন শেষ হবে
আমার ভেতরের শেষ দ্বিধার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া,
সেদিন তোমরা দেখবে-
একজন মানুষ কিভাবে
পুরো একটি অন্ধ যুগের বিরুদ্ধে
একাই দাঁড়িয়ে যায় বজ্রের মতো!
আমি বিচার চাইনি-
কারণ তোমাদের আদালতের দাঁড়িপাল্লা
অনেক আগেই বিক্রি হয়ে গেছে
ক্ষমতার কালোবাজারে।
আমি করুণা চাইনি-
কারণ করুণার ভাষাও
তোমাদের সভ্য শহরে আজ দালালি শিখেছে।
আমি দেখেছি-
কিভাবে ক্ষুধার্ত শিশুর মুখের ভাত
চুরি করে উৎসব করেছে শকুনেরা,
কিভাবে নারীর কান্নাকে
রাতের অন্ধকারে গিলে খেয়েছে
সভ্যতার মুখোশ পরা নরপিশাচেরা।
আমি দেখেছি-
সত্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়,
তারপর সংবাদে লেখা হয়-
“পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।”
তাই আমি আর স্বাভাবিক নই।
আমি এখন
ধীরে ধীরে তৈরি করছি নিজেকে-
লোহার মতো শীতল,
বজ্রের মতো নির্ভুল,
ঝড়ের মতো অনিবার্য।
আমি আর কোনো ভীত মানুষের নাম নই,
আমি এখন একটি চলমান প্রতিরোধ।
আমার হাতে অস্ত্রের আগে জন্ম নিয়েছে
অগ্নিময় বিবেক,
আমার চোখে প্রতিশোধের আগে জেগেছে
অসংখ্য অপমানিত মানুষের ইতিহাস।
আমি হবো সেই ছায়া
যে দুর্নীতির প্রাসাদের দেয়ালে
রাতের আঁধারে লিখে যাবে-
“অত্যাচারের দিন ফুরিয়ে আসছে।”
আমি হবো সেই বজ্রধ্বনি
যা শুনে কেঁপে উঠবে-
শিশুনিপীড়কের অন্তরাত্মা,
ধর্ষকের কলিজা,
দুর্নীতিবাজের প্রতিপত্তি,
ভন্ডের ধর্ম,
পাশবিকতার পিঞ্জর,
স্বৈরাচারীর মসনদ,
ঘুষখোরের টেবিল,
মিথ্যাবাদীর মঞ্চ,
অন্ধআইনের দাঁড়িপাল্লা,
আর ক্ষমতার দালাল ও প্রবঞ্চকের দম্ভ।
তোমরা যাদের আইন বলো,
আমি দেখেছি তাদের হাতে
শুধু শিকল তৈরি হয়;
তাই আমি আজ
মানুষের মুক্তির ভাষা শিখছি।
আমি একা-
তবুও আমার পেছনে হাঁটে
অগণিত বঞ্চিত আত্মার দীর্ঘ মিছিল।
আমি নিঃসঙ্গ-
তবুও আমার কণ্ঠে গর্জে ওঠে
পুরো এক যুগের দমবন্ধ ক্রোধ।
আমি কোনো রূপকথার নায়ক নই,
আমি ক্ষুধার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো রুটি,
আমি ধর্ষিত বিবেকের রক্তাক্ত প্রতিবাদ,
আমি নিপীড়িত মানুষের জমে থাকা বজ্রপাত।
আর যেদিন
আমার নীরবতার শেষ কবরটিও ভেঙে যাবে,
সেদিন তোমরা বুঝবে-
কেন আমি
তোদের বিচারহীনতার রাজ্যে
কখনো কারো কাছে বিচার চাইনি।
কারণ আমি জানতাম-
যেখানে ন্যায় বন্দী,
সেখানে প্রতিরোধই
মানুষের শেষ উচ্চারণ।
প্রদ্যোত / ২৩ মে ২০২৬