← Back to poetry
❧

ম‍্যান্ডেটের অগ্নিশপথ

Poetry

ম‍্যান্ডেটের অগ্নিশপথ

মানুষের মনোনয়ন নিয়ে
তাদের মনকে বিষিয়ে নয়নে অশ্রু ঝরিয়ে
কতদিন আর এই নরক-নৃত্য করবে তোমরা?
কতদিন আর মানুষের মস্তিষ্কে পুঁতে দেবে
অন্ধকারের বিষবীজ?
নয়নের সামনে উলঙ্গ ব্যভিচারের মশাল জ্বেলে
ভাবছো-
মানুষ বুঝি মৃত?
মানুষ বুঝি কেবলই
ভাঙা রুটির বিনিময়ে বিকিয়ে যাওয়া একদল ছায়া?

ভুল করেছ!
ভীষণ ভুল করেছ!

মানুষের বুকে এখনো
অগ্ন্যুৎপাতের লাভা ঘুমিয়ে আছে,
মানুষের শিরায় এখনো
বিদ্রোহী বজ্রের রক্ত দাউদাউ করে জ্বলে!
এই নীরবতা কবরের নয়-
এই নীরবতা
ঝড়ের আগে জমে ওঠা কৃষ্ণ মেঘের গর্ভধ্বনি!

তোমরা মানুষের ম্যান্ডেট নিয়ে
ম্যান ডেথের উৎসব করছো-
ক্ষমতার সোনালি প্রাসাদে বসে
কঙ্কালের উপর লিখছো উন্নয়নের উপাখ্যান!
শিশুর কান্না দিয়ে বানাচ্ছো রাজমুকুট,
মায়ের রক্ত দিয়ে রাঙাচ্ছো পতাকা,
আর মৃত মানুষের নিঃশ্বাস গুনে গুনে
তৈরি করছো সভ্যতার নতুন সংবিধান!

ধিক্ তোমাদের!
ধিক্ এই রক্তলোলুপ ক্ষমতার উল্লাস!

মনে রেখো-
মানুষ তোমাকে সিংহাসন দিয়েছে,
স্বর্গের ইজারাপত্র নয়!
মানুষ তোমাকে ক্ষমতা দিয়েছে,
মানবতার গলায় ছুরি ধরার অধিকার নয়!
যে হাত তোমাকে মুকুট পরিয়েছে,
সেই হাতই একদিন
তোমার রাজদণ্ড ভেঙে
আগুনের নদীতে নিক্ষেপ করবে!

সাবধান!
দম্ভের স্তম্ভ কখনো চিরস্থায়ী নয়।
ক্ষমতার প্রাসাদ যত উঁচুই হোক,
মানুষের অভিশাপ তার চেয়েও উচ্চতর বজ্রধ্বনি!

যেদিন ক্ষুধার্ত শিশুর চোখে
বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠবে,
যেদিন পথের ভিখিরি
মুষ্টিবদ্ধ হাতে আকাশ কাঁপাবে,
যেদিন কৃষকের ঘামে জমে ওঠা লবণ
বারুদের মতো বিস্ফোরিত হবে-
সেদিন তোমাদের প্রাসাদের প্রতিটি স্তম্ভ
ধ্বসে পড়বে মহাপ্রলয়ের শব্দে!

কারণ ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর আগ্নেয়গিরি
মানুষ নিজেই।
যখন সে জেগে ওঠে-
সমুদ্র দেয়াল ভাঙে,
লোহার শেকল গলে যায়,
রাজমুকুট ছাই হয়ে উড়ে যায় বাতাসে!

শুনে রাখো-
ক্ষমতার চেয়েও প্রবল
মানুষের ক্রোধ।
অস্ত্রের চেয়েও ধারালো
অপমানিত জনতার আর্তনাদ।
আর পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়াবহ দৃশ্য-
জেগে ওঠা মানুষের মিছিল!

সেদিন আকাশে আগুন উঠবে,
পৃথিবী কাঁপবে বজ্রের উন্মত্ততায়,
আর ইতিহাস নতুন রক্তলিপিতে লিখবে-

“মানুষ কখনো পরাজিত হয় না।”

প্রদ্যোত / ০৮ মে ২০২৬

✦