অগ্নিদেবীর প্রতি
অগ্নিদেবীর প্রতি
[রাত্রির অন্ধকারে যিনি জ্বালিয়েছিলেন সূর্যের প্রতিজ্ঞা]
চট্টগ্রামের মাটি তখন কাঁপছে,
শ্বাস নিচ্ছে দাসত্বের ধোঁয়ায় ভারী বাতাস,
আর সেই দমবন্ধ সময়ের বুক চিরে
এক তরুণী দাঁড়ালেন-
চোখে বিদ্রোহের দীপ্ত নক্ষত্র,
হৃদয়ে স্বাধীনতার অগ্নি-উচ্ছ্বাস।
যেন তাঁর রক্তের প্রতিটি কণায়
লুকিয়ে ছিল এক একটি বিস্ফোরণ,
যেন তাঁর নিঃশ্বাসেই লেখা ছিল
শৃঙ্খল ভাঙার গোপন মন্ত্র।
পাহাড়তলীর সেই ইউরোপীয় ক্লাব-
দরজায় লেখা ছিল অপমানের কালো শিলালিপি:
“Dogs and Indians Not Allowed!”
সেই লাঞ্ছনার আগুনে দগ্ধ হয়ে
তিনি নিলেন প্রতিশোধের শপথ-
না, ব্যক্তিগত নয়-
একটি জাতির সম্মানের প্রতিশোধ!
রাত্রি তখন নিঃশব্দ ষড়যন্ত্রের মতো গভীর,
আকাশে তারা জ্বলছে যেন সংকেতের প্রদীপ,
আর তিনি- পুরুষ বেশে, অদম্য সাহসে-
অভিযানের নেতৃত্বে, যেন বজ্র হাতে দেবী,
অন্যায়ের দুর্গ ভাঙতে চলেছেন নির্ভীক পায়ে।
গুলি ছুটল- ইতিহাস কেঁপে উঠল!
দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল প্রতিরোধের আগুন,
আর সেই আগুনে জেগে উঠল
ঘুমিয়ে থাকা হাজারো হৃদয়।
কিন্তু ধরা পড়ার আগে-
না, তিনি বন্দি হননি!
স্বাধীন আত্মা কখনো শৃঙ্খলে বাঁধা পড়ে না-
নিজ হাতে তুলে নিলেন সায়ানাইড,
মৃত্যুকে পরালেন বিজয়ের মালা,
আর অমর হলেন-
অমর, চিরঅগ্নি, চিরজাগ্রত!
প্রীতিলতা,
তোমার সেই শেষ মুহূর্ত-
ছিল না পরাজয়,
ছিল এক মহাজাগরণের সূচনা,
যেখানে মৃত্যু নিজেই মাথা নত করে
স্বাধীনতার পায়ে।
তোমার শরীর নিভে গেছে-
কিন্তু তোমার আগুন?
সে তো আজও জ্বলে
প্রতিটি প্রতিবাদী কণ্ঠে,
প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে তোলা মুষ্টিতে,
প্রতিটি সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো হৃদয়ে।
আজ তোমার জন্মদিনে-
আমরা শুধু স্মরণ করি না,
আমরা পুনর্জন্ম দিই সেই আগুনকে,
নিজের ভিতরে, নিজের রক্তে-
যেন আবার কোনো প্রীতিলতা
জেগে ওঠে এই বাংলার মাটিতে!
তোমার আত্মত্যাগ এক অমলিন শপথ-
হে অগ্নির দেবী!
যতদিন অন্যায় থাকবে,
ততদিন তোমার নাম হবে
একটি বজ্রনিনাদ-
একটি মুক্তির ডাক-
একটি আগুন,
যা কখনো নিভে না… 🔥
প্রদ্যোত / ০৫ মে ২০২৬