ফেরারী
ফেরারী
আমি এখন আর ফেরার পথ খুঁজি না-
বরং ভেঙে ফেলি নিজের ভিতরের সব দরজা,
যেখানে একদিন তোমার নাম লিখে রেখেছিলাম
শ্রাবণের প্রথম বৃষ্টির মতো কোমল করে।
তোমার অনুপস্থিতি এখন আর শূন্য নয়-
সে এক বিস্তৃত অরণ্য,
যেখানে প্রতিটি গাছের ডালে ঝুলে আছে
অপ্রকাশিত স্পর্শের ক্ষুধা,
আর প্রতিটি পাতায় জমে আছে
অর্ধেক উচ্চারিত ভালোবাসার অক্ষর।
তোমার আহ্বান আমি শুনেছিলাম,
কিন্তু সে শব্দ ছিল না কেবল নিমন্ত্রণ,
সে ছিল এক ধ্বংসের মৃদু প্রস্তাবনা,
যেখানে আমার ভিতরের সমস্ত নির্মাণ
নীরবে ধুলো হয়ে ঝরে পড়ে।
আমি এখন আর বিষ জমাই না ফুলেল কৌটায়,
আমি বিষকেই রূপ দিই সুগন্ধি বৃষ্টিতে-
যাতে প্রতিটি ফোঁটায় তুমি ফিরে আসো
অচেনা কোনো ব্যথার অবয়বে,
আর আমি ভিজে যাই,
তোমাকে না ছুঁয়েও তোমারই মতো হয়ে।
তুমি যে স্পর্শ করতে পারো না-
সেই অস্পর্শই এখন আমার সবচেয়ে গভীর আলিঙ্গন,
যেখানে দূরত্বই হয়ে ওঠে অন্তরঙ্গ,
আর অনুপস্থিতিই সবচেয়ে উজ্জ্বল উপস্থিতি।
আমার কংক্রিট ভাঙা শহরের ভেতর
এখনও মাঝে মাঝে জ্বলে ওঠে
তোমার চোখের হীরক বিন্দু,
আমি সেগুলো কুড়িয়ে রাখি-
একটি ব্যক্তিগত নক্ষত্রপুঞ্জ বানিয়ে।
তুমি কেন কাঁদো-সেই প্রশ্ন আজ আর রাখি না,
বুঝেছি, প্রেমহীনতার অপবাদও এক ধরনের প্রেম,
যেখানে কেউ কাউকে ছুঁতে পারে না,
তবু সারাজীবন একে অপরের ভেতরেই বেঁচে থাকে।
তুমি যে অন্ধকার পাঠিয়েছো-
আমি তা জ্বালিয়ে নিয়েছি প্রদীপের মতো,
এখন আমার প্রতিটি রাত
তোমারই নামের আলোয় জ্বলে।
ফেরার আর প্রয়োজন নেই-
কারণ তুমি আর আমি
দু’জনেই এখন বাস করি
একই অনন্ত দূরত্বের ভেতর,
যেখানে ছোঁয়া নেই,
তবু স্পন্দন থামে না কখনো।
প্রদ্যোত