আলোর পথিক
আলোর পথিক
আলোর পথযাত্রীর কাছে
পৃথিবী কখনো কেবল পথ নয়,
সে যেন এক অন্তহীন উন্মোচন,
একটি পর্দা সরার পর আরেকটি পর্দা,
যেখানে প্রতিটি বাঁকে দাঁড়িয়ে থাকে
মুক্তির আরেকটি আভাস।
সে জানে, ঘর মানে চার দেওয়াল নয়,
ঘর মানে এক অদৃশ্য টান,
যা কখনো ডাকে, কখনো ঠেলে দেয় দূরে।
তবু সে টানকে অতিক্রম করে,
কারণ তার ভেতরে জ্বলে এক অদ্ভুত দীপ্তি
যা স্থিরতাকে ভয় পায়,
আর চলার মধ্যেই খুঁজে পায় নিজের অস্তিত্ব।
সংযোগ তীরে সে পৌঁছায় বারবার,
কখনো মানুষে, কখনো স্মৃতিতে,
কখনো আকস্মিক কোনো স্পর্শে।
সেখানে জন্ম নেয় মায়া,
নরম, শ্যামল, ছায়ার মতো এক বন্ধন।
মায়া তাকে ডাকে,
“থেমে যাও, এইখানে একটু দাঁড়াও।”
কিন্তু তার পায়ের নিচে যে পথ,
সেই পথের নিজস্ব এক ডাক আছে
যা কোনো তীরের চেয়ে গভীর,
কোনো আশ্রয়ের চেয়ে শক্তিশালী।
ক্লান্তি আসে,
হঠাৎ সন্ধ্যার মতো নেমে আসে শরীরজুড়ে।
হাঁটতে হাঁটতে তার শ্বাস ভারী হয়,
চোখে জমে ধুলো,
আর হৃদয় চায় একটু থামতে।
তবু সে থামে না,
সে জানে, ক্লান্তিও একপ্রকার মায়া,
যা পথের পরীক্ষার মতো এসে দাঁড়ায়।
তাই সে চলে অবিরাম
ধীরে, অথচ দৃঢ় এক গতি নিয়ে।
তার প্রতিটি পদক্ষেপ যেন বলে,
“আমি থামবার নই,
আমার গন্তব্য কোনো স্থানে নয়,
আমার গন্তব্য এই চলার মধ্যেই।”
অবারিত পথ যার সম্মুখে,
তার কাছে দিগন্তও এক ক্ষণিকের বিভ্রম।
সে জানে, সামনে যতদূরই যাই,
আরও পথ খুলে যাবে,
আরও অজানা, আরও অচেনা।
তখন প্রশ্ন জাগে,
তার কি কোথাও ঘর বাঁধা সম্ভব?
না, তার ঘর কোনো স্থির ঠিকানা নয়।
তার ঘর সেই আলোর রেখা,
যা তাকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
তার ঘর সেই অনিশ্চয়তা,
যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত নতুন জন্মের মতো।
সে একা নয়,
তার সঙ্গে আছে পথের নীরবতা,
তার সঙ্গে আছে বাতাসের অনন্ত সঙ্গীত,
তার সঙ্গে আছে নিজের ভেতরের এক দীপ্ত স্বর,
যা তাকে বলে,
“তুমি পথিক,
আর তোমার মুক্তি এই পথেই।”
তাই সে হাঁটে, হেঁটেই চলে,
মায়াকে পেছনে ফেলে নয়,
মায়াকে সঙ্গে নিয়ে,
ক্লান্তিকে অস্বীকার করে নয়,
ক্লান্তিকে অতিক্রম করে।
কারণ আলোর পথযাত্রীর কাছে
মুক্তি মানে কোনো শেষ নয়,
মুক্তি মানে এক অনন্ত শুরু,
যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপে জন্ম নেয়
নতুন এক পৃথিবী,
নতুন এক আকাশ,
আর নতুন এক নিজস্বতা।
প্রদ্যোত