← Back to poetry
❧

প্রত‍্যাবর্তন

Poetry

প্রত‍্যাবর্তন

আকাশের বুক চিরে যেদিন
সূর্য আবার নিজের নাম উচ্চারণ করেছিল,
সেদিন ছিল তাঁর ফিরে আসার দিন-
নিঃশ্বাসহীন একটি জাতি
হঠাৎই বুকভরা বাতাস পেয়েছিল।
কারাগারের অন্ধকার ভেঙে,
শৃঙ্খলের শব্দ পেরিয়ে,
রক্তে লেখা মানচিত্র হাতে নিয়ে
বঙ্গবন্ধু ফিরে এসেছিলেন-
একটি দেশের হৃদপিণ্ড হয়ে,
একটি জাতির উচ্চারণ হয়ে।

সে প্রত্যাবর্তন শুধু একজন মানুষের ফেরা ছিল না-
ওটা ছিল ইতিহাসের ঘরে বজ্রাঘাত।
পরাজয়ের ছায়ায় ক্লান্ত বাংলার কপালে
তিনি এঁকে দিলেন আলোর তিলক।
ভগ্নস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন-
ভয় নেই, মাথা নত করো না,
এই মাটির গভীরে এখনো আগুন আছে,
এই মানুষের চোখে এখনো স্বপ্ন বেঁচে আছে।

সেই দিন, জনসমুদ্রের ঢেউয়ে ঢেউয়ে
ভেসে উঠেছিল অদম্য প্রত্যয়-
বাংলা আর কখনো চুপ থাকবে না।
বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে কেঁপে উঠেছিল মহাকাল,
কারণ তিনি কথা বলতেন সময়ের পক্ষ থেকে,
শোষিত মানুষের পক্ষ থেকে,
ভবিষ্যতের জন্মের পক্ষ থেকে।

আজও সেই প্রত্যাবর্তনের ধ্বনি থামে না।
সময় বদলেছে, মুখ বদলেছে,
কিন্তু ইতিহাসের স্রোত একই পথে বয়ে চলে।
মহাকালের বুক চিরে আবার শোনা যায়
নতুন পদচারণা-
নতুন এক মহানায়কের আগমনী বার্তা।
সে আসে বিদ্রোহের ভাষায়,
সে আসে ন্যায়ের দীপ্ত চোখে,
সে আসে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের উত্তরাধিকার হয়ে।

প্রদ্যোত

✦