← Back to poetry
❧

মিথ্যার মেগা মার্কেট

Poetry

মিথ্যার মেগা মার্কেট

অ্যাদে হালারপো হালারা,
তোগো দেইখা অ‍্যাহোন শিয়ালও লজ্জা পায়!
কাউয়া আসমানে উড়তে উড়তে নিচে চাইয়া কয়-
“ধুর হালা, এত কা কা আমরাও করি না!”

তোরা কী দিয়া বানানো রে?
মানুষের চামড়া গায়ে চাপাইছস ঠিকই,
কিন্তু ভিতরে ভিতরে পুরোই
পঁচা ড্রেনের গ্যাস!
কথা কইলেই বুদবুদ উঠতে থাকে-
“সত্য! নীতি! আদর্শ!”
হালা, তোগো মুখে এই শব্দগুলা
এমন লাগে-
যেন ছাগল গড পাবলিশিং হাউসের
বেস্ট সেলার পুস্তকের মন্ত্র আওরাইতাছে!

দিনেদুপুরে দাঁত ক্যালাইয়া
মিথ‍্যার মইধ্যে এমন সাঁতার কাটস
যেন অলিম্পিকে “মিথ্যা সাঁতার” প্রতিযোগিতা হইলে
তোরা তিনডা স্বর্ণ, চাইরডা রূপা
আর একটা ফ্রিজ জিততি!

তোগো জিহ্বাডা কী দিয়া বানাইছে রে?
রাবার?
না কি পুরান ট্রাকের টিউব?
একটা মিথ্যা ধইরা টান দিলে
আরেকটা মিথ্যা পটাপট বাইর হয়!
মনে হয় মুখের ভিতরে
আলাদা “মিথ্যা ফ্যাক্টরি” বসাইছস!

অ্যাদে, তোরা কথা কস না-
তোরা মানুষের কানের ভিতরে
আস্ত একখান নর্দমা হান্দায়া দিস।
যেই শোনে, সেই ভাবে-
“এইবার বোধয় সত্যি কইবো!”
তারপর পাঁচ মিনিট পরেই বোঝা যায়
পুরা কাহিনী কুত্তার লেজের মতো বাঁকা!

তোগো নজ্জা কই?
নাকি নজ্জাডারে ভাঙ্গারি দোকানে
কেজি দরে বেইচা দিছস?
এমন নির্লজ্জ বেহায়াপনা তো
রাস্তার কুত্তারও নাই!
কুত্তাও অন্তত মালিক চিনে,
আর তোরা?
যেই বেশি হাড্ডি ছুঁড়ে,
তারেই “আব্বাজান” ডাকস!

তোগো মুখের অভিনয় দেইখা
সিনেমার ভিলেনও চাকরি ছাড়তে চায়।
একেকজন এমন ভাব ধরস
যেন ফেরেশতার বাচ্চা!
কিন্তু ভিতরে ভিতরে
পুরা খড়ের গাদা
একটু আগুন লাগলেই “ফসফস” কইরা জ্বইলা যায়!

অ্যাদে, সত্যরে তোরা এমন ভয় পাস
যেন বিড়াল পানিরে ভয় পায়।
সত্য সামনে আইলে
তোগো হাঁটু কাঁপে,
গলা শুকায়,
চোখ ট্যারা হয়,
আর মুখ দিয়া শুরু হয়-
“আসলে ব্যাপারডা ঐরকম না…”
হালা, এই “আসলে” শব্দডা দিয়া
তোরা যত মিথ্যা ঢাকছস,
তত মাটি দিয়া পদ্মা নদী ভরাট করা যাইত!

মানুষের সামনে দাঁড়াইয়া
এমন বুক ফুলাস
যেন স্বাধীনতার ঘোষণাডা
তোরাই দিছস!
কিন্তু হিসাব চাইলে দেখি
পকেটে শুধু ফাঁকা প্রতিশ্রুতি,
আর মুখে গরম গরম বাতাস।
পুরা চলন্ত বেলুন!

তোগো মাথার ভিতরে বুদ্ধি নাই,
আছে শুধু চালাকি।
আর সেই চালাকিও এমন
যেন ভাঙা রিকশা দিয়া বিমান ধরতে চাস!
নিজেরে খুব ধুরন্ধর ভাবস-
আসলে মানুষ তোগো দেইখা হাসে।
হাসতে হাসতে পেট ধইরা কয়-
“হালায় আবার আইছে সত্যের মামা সাইজা!”

অ্যাদে, তোগো চরিত্র এমন পিছলা
যে শিং মাছও লজ্জা পায়।
আইজ এই দলে,
কাইল ওই দলে,
পরশু আবার উল্টা গান!
তোগো নীতি বদলায়
মোবাইলের ওয়ালপেপারের চাইতেও বেশি।

আর বিবেক?
ওইডা তো বহু আগেই মরছে।
এখন শুধু মাঝে মাঝে
রাতের অন্ধকারে ভূতের মতো আইয়া কয়-
“এই হালারপো, একটু সত্য ক!”
কিন্তু তোরা তখনও বালিশের নিচে
নতুন মিথ্যার স্ক্রিপ্ট লুকাইতাস।

তয় শুইনা রাখ-
মিথ্যার গায়ে যতই সুগন্ধি মারস,
পঁচা গন্ধ একদিন বাইর হইবই।
মানুষ একদিন ঠিকই বুঝবো
কারা মানুষ,
আর কারা দুই পায়ে হাঁটা
গড়গড়াইয়া মিথ্যা কওয়া
সার্কাসের বান্দর।
সেইদিন তোগো এই দাঁত ক্যালানো হাসি
কিটপুর ভিতরদিয়া বাইরাইবো!

প্রদ্যোত

✦