← Back to poetry
❧

আগমনী

Poetry

আগমনী

তিনি আসবেন-
হ্যাঁ, আবার আসবেন।
ইতিহাসের ধুলো ঝেড়ে,
সময়ের ক্ষতচিহ্ন বুকে নিয়েই আসবেন।
কোটি বাঙালির নীরব দীর্ঘশ্বাস, অব্যক্ত প্রার্থনা,
অভিমান আর প্রত্যাশার দোলায় দুলে
এক অমোঘ টানে তাঁকে ফিরিয়ে আনবে এই ভূমি।

পদ্মা-মেঘনা-যমুনা-মধুমতির উর্বর পাললিক বুকের ভেতর
আজও ধুকপুক করে একটি রাষ্ট্রের হৃদয়।
এই নদীরা জানে-
কখন কোন কন্যা ফিরে আসে ইতিহাস বদলাতে।
যে ভূখণ্ডে দেবীর বোধন হয়েছিল
সময়ের এক অগ্নিপরীক্ষার সন্ধিক্ষণে,
যে শ্যামলা প্রাকৃতির প্রতিটি ধানগাছ,
প্রতিটি কাদামাখা পা
অসহায় মানুষের আবেগে আজও বিদ্যুতায়িত-
সেই মাটিই তাঁকে ডাকে নাম ধরে।

মহামায়া যাঁকে বারংবার
নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছে,
যাঁকে আগলে রেখেছে অদৃশ্য শক্তির করুণ হাতে,
তিনি কেবল একজন মানুষ নন-
তিনি একটি ধারাবাহিকতা,
একটি অসমাপ্ত অঙ্গীকার,
একটি রাষ্ট্রের অসম্ভব স্বপ্ন।

তিনি আসবেন এই মাটির ত্রাতা হয়ে,
এই মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে,
এই প্রকৃতির ন্যায়বিচার হয়ে।
জনকোলাহলের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে
তিনি শুনবেন শ্রমিকের চাপা দীর্ঘশ্বাস,
কৃষকের ফাটা হাতের আর্তি,
তরুণের অস্থির বুকের ভেতরের বজ্রধ্বনি।
আর সেই কোলাহলের মধ্যেই
তিনি উচ্চারণ করবেন বিপ্লবের নতুন ব্যাকরণ-
রক্তের নয়, নির্মাণের;
ধ্বংসের নয়, সম্ভাবনার।

তারুণ্যের কাণ্ডারী হয়ে তিনি আবার দাঁড়াবেন সামনে।
যে তারুণ্য একদিন স্বপ্ন দেখেছিল আলোয়,
আজ বিভ্রান্ত অন্ধকারে পথ হারিয়ে ফেলে-
তিনি তার হাতে আবার তুলে দেবেন দিকনির্দেশ।
বলবেন, “ভয় নয়-ভবিষ্যৎ তোমাদের।”
বলবেন, “বাংলা মাথা নত করে বাঁচার জন্য জন্মায়নি।”

ভুল সময়, ভুল মানুষের সংস্পর্শে থাকার
ব্যথাময় অভিজ্ঞতা,
অবিশ্বাস আর ষড়যন্ত্রে জর্জরিত স্মৃতিগুলো
একদিন ছিল ভারী শিকল।
আজ সেগুলোই জ্বালানি।
সেই ভস্ম থেকেই
ফিনিক্সের ডানায় ভর করে
তিনি আবার আবির্ভূত হবেন-
দগ্ধ, কিন্তু পরাজিত নন;
আঘাতপ্রাপ্ত, কিন্তু অটল।

তিনি আসবেন
সব শোষণের বিরুদ্ধে একটি দৃঢ় উচ্চারণ হয়ে,
সব নিপীড়নের বিরুদ্ধে একটি অবিচল দেয়াল হয়ে,
সব অন্যায় আর মিথ্যার বিরুদ্ধে
একটি চূড়ান্ত প্রত্যাখ্যান হয়ে।
বাংলার বুক থেকে
চিরতরে মুছে দিতে আসবেন
ভণ্ডামি, বিভাজন আর অন্ধকারের রাজনীতি।

এ আগমন প্রতিশোধের নয়-
এ আগমন পুনর্জাগরণের।
এ আগমন প্রতিহিংসার নয়-
এ আগমন পুনর্গঠনের।
এ আগমন নতুন যুগের,
যেখানে রাষ্ট্র মানে কেবল ক্ষমতা নয়,
রাষ্ট্র মানে দায়িত্ব;
রাষ্ট্র মানে মানুষের মুখে হাসি।

আমরা তাই প্রতীক্ষারত-
নিষ্ক্রিয় অপেক্ষায় নয়,
সচেতন প্রত্যাশায়।
আমরা জানি, ইতিহাস কখনো চুপ করে থাকে না।
সে ফিরে আসে,
একজন মানুষের কণ্ঠে,
একটি জাতির আত্মবিশ্বাসে।

তিনি আসবেন।
আবার আসবেন।
এ মাটি তাঁকে ছাড়া অসম্পূর্ণ-
এ মানুষ তাঁকে ছাড়া শূন্যতায় নিস্তব্ধ।
আর সেই প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই
বাংলা আবার উচ্চারণ করবে
নিজের পূর্ণ নাম, নিজের পূর্ণ ভবিষ্যৎ।

তিনি আসবেন চিরায়ত দেবী রূপে!
মঙ্গলালোকে আলোকিত করে দিতে
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম পাললিক ভূখন্ডে।

প্রদ্যোত / ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

✦