দ্রোহের অনল
দ্রোহের অনল
কোনো অন্যায়কারীর জন্য
ক্ষমার মধু যেন না নামে আমার জিহ্বায়।
কোনো পাপের প্রশ্রয়দাতার ছায়ায়
নত না হোক আমার মেরুদণ্ড।
আর যারা অপরাধ ঢাকে মিথ্যার পর্দায়,
তাদের নীরব সহচর হতে
আমার বিবেক যেন কোনোদিন রাজি না হয়।
যে আমি চিরায়ত সত্য পথের পথিক
শত প্রতিকূলতার মধ্যেও
অজস্র ক্ষতির ক্ষত নিয়েও যে
শাশ্বত শিল্পের সত্যনিষ্ঠ ধারক হয়ে
ন্যায়ের জন্য কণ্ঠে অগ্নি ঝরায়-
সেই আমি অপরাধকে মানুষের মুখোশ পরিয়ে
ক্ষমা করতে চাই না কখনো।
যে হাত অন্যায় করে,
যে হাত তাকে আশ্রয় দেয়,
যে হাত সত্যের প্রমাণ মুছে ফেলে-
অন্ধকারের ইতিহাসে
তিন হাতই একই উত্তরাধিকার।
তাদের বিনাশ আমার দ্রোহের অনলেই লেখা।
আমার ভিতরে জেগে থাক
এক অনিদ্র আগুনের উন্মাতাল আক্রোশ-
ক্ষমতার সামনে যে নত হয় না,
প্রলোভনে যে নিভে না,
তথাকথিত ভয়ের কাছে
যে নিজের অস্তিত্ব ভুলে যায় না।
আমি সেই আগুন হয়ে উঠছি
যে আগুন মিথ্যার মুখোশ
ঝলসে দিতে উদগ্রীব।
আমি সেই বিচারক হয়ে উঠেছি
যার আদালতে পদ, ক্ষমতা, পরিচয়
সবকিছু খুলে রেখে
মানুষকে শুধু মানুষ হিসেবেই দাঁড়াতে হয়।
আমি এমন এক সকাল রচনা করে যাবো,
যেখানে সত্য বলার জন্য
কোনো শিশুকে সাহস ধার করতে হবে না;
যেখানে অপরাধীর ছায়া
আইনের চেয়ে দীর্ঘ হবে না।
নীরবতা কখনো নিরপেক্ষ নয়।
অন্যায়ের সামনে নীরবতা
অন্যায়েরই দীর্ঘ ছায়া।
আজ আমার কণ্ঠে কোনো প্রার্থনা নেই।
আছে অগ্নিশপথ।
মিথ্যা তার মুখোশ হারাবে।
অপরাধ তার আশ্রয় হারাবে।
পাপাচার তার সিংহাসন হারাবে।
আর যদি তারা ভাবে
তারা যে ভয়ে ভীত
সেই ভয় দেখিয়ে এই আগুন থামানো যায়-
ইতিহাস তার বুকেই লিখে রাখুক-
একটি সত্য
হাজার মিথ্যার চেয়ে ভারী।
একটি জাগ্রত বিবেক
হাজার প্রাসাদের চেয়ে শক্তিশালী।
আমার দ্রোহ অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হয়
যখন অন্যায়ের চেয়ে বিবেক বড় হয়ে ওঠে।
আমার কণ্ঠ হয়ে ওঠে বজ্র,
চৈতন্যের স্ফুলিঙ্গরা হয়ে ওঠে দাবানল,
সত্যেরা হয়ে ওঠে লোভীদের পতনের আঘাত।
শুনে রাখুক অন্ধকার-
আমি আগুন হয়ে উঠছি।
আর সেই আগুনের লেলিহান শিখার ওপর
উঠবে একটি মাত্র শব্দ- সত্য!
তারপর আরেকটি- ন্যায়!
আর তাদের মাঝখান দিয়ে
বজ্রের মতো উঠে আসবে
চেতনার অমোঘ ঘোষণা-
অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয়!
অপরাধের সঙ্গে নীরবতা নয়!
মিথ্যার সঙ্গে সহাবস্থান নয়!
যে আগুন সত্যের জন্য জ্বলে,
তাকে কোন অপশক্তি দিয়ে নিবৃত করা যায় না,
আমি সেই আগুন!
আমার দ্রোহের অনলে ভস্মীভূত হতে
প্রস্তুত হও পাপীরা!
প্রদ্যোত / ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬