রামিসার জন্য এই নষ্ট পৃথিবী নয়!
রামিসার জন্য এই নষ্ট পৃথিবী নয়!
এই পৃথিবী তোর ছিল না মা রামিসা,
এখানে ফুল ফোটার আগেই
ফুলকে ছিঁড়ে খায় অন্ধ নখর।
এখানে শিশিরভেজা সকালও
কখনো কখনো রক্তের গন্ধে জেগে ওঠে।
তুই তো এসেছিলি
এক মুঠো হাসি হয়ে-
চুলে রোদের ফিতা বেঁধে,
কাদামাটিতে পা ডুবিয়ে
প্রজাপতির পিছু ছুটতে।
তোর চোখে ছিল
নদীর মতো স্বচ্ছ ভবিষ্যৎ,
মায়ের আঁচলে মুখ লুকানো নিশ্চিন্ত বিকেল,
আর ছোট্ট ছোট্ট স্বপ্নের রঙিন ঘুড়ি।
কিন্তু এই সভ্যতার পোশাকপরা অরণ্যে
ঘুরে বেড়ায় কিছু হিংস্র জানোয়ার,
মানুষের মুখে লুকানো
অমানুষের ক্ষুধা নিয়ে।
তারা শিশুর হাসি বোঝে না,
বোঝে না পবিত্রতা,
বোঝে না নিষ্পাপ ঘুমের ভাষা।
তাদের চোখে শুধু
অন্ধকারের লালা ঝরে।
তোর ছোট্ট শরীরটাকে
নরকের কীট ভেবেছিল শিকার-
একটি কোমল প্রাণ,
যাকে ছিন্নভিন্ন করলেও
নাকি আকাশ ভেঙে পড়বে না!
কিন্তু তারা জানে না,
একটি শিশুর কান্নায়
সমস্ত মানবতার মুখ পুড়ে যায়।
আজ বাতাস ভারী হয়ে আছে,
পৃথিবীর বুক জুড়ে
অসংখ্য মায়ের নীরব আর্তনাদ।
রামিসা, তোর জন্য আজ
চাঁদও যেন কালো কাপড় পরে আছে।
তারারাও কাঁপছে শোকে।
মাগো, তোর ভয়ার্ত করুণ মুখটির কথা ভেবে
আৎকে উঠি বারবার..
ভীষণ ভয়ে গুটিয়ে গিয়েছিলি নিশ্চয়ই!
তোর আতংকের কাছে
নিশ্চিত সকল ব্যথা যন্ত্রনা হারিয়ে গিয়েছিল..
মাকে ডাকছিলি?
বাবার সাহায্য চাইছিলি জীবনের দাবীতে?
তোর পুতুলটা কি এখনও
বিছানার কোণে মুখ গুঁজে কাঁদে?
তোর অসমাপ্ত আঁকিবুঁকির খাতায়
কি এখনও রঙিন সূর্য ওঠে?
এই সমাজ যদি এখনও চুপ থাকে,
যদি নরপশুরা বারবার
ক্ষমতার ছায়ায় বেঁচে যায়,
তবে প্রতিটি নীরবতা হবে
আরেকটি শিশুর মৃত্যুর সহকারী।
আমরা চাই বিচার-
দৃষ্টান্তমূলক প্রকাশ্য বিচার।
শুধু আইনের পাতায় নয়,
মানুষের বিবেকের গভীরে।
যেন আর কোনো রামিসাকে
ভুল করে আসতে না হয়
এই বর্বর পৃথিবীতে।
যেন কোনো মা
তার সন্তানের কপালে চুমু খেয়ে
ভয়ে কেঁপে না ওঠে।
যেন প্রতিটি শিশু
নির্ভয়ে বলতে পারে-
“পৃথিবীটা এখনও মানুষের।”
প্রদ্যোত / ২০ মে ২০২৬
#JusticeForRamisa #StopChildAbuse #StopViolenceAgainstChildren #StopRape