শব্দিত তুলি
শব্দিত তুলি
বইয়ের অক্ষর-অবসাদে
যখন ডুবে যায় তোমার দৃষ্টি,
আমি দূরের আলোর মতো
তোমার দিকে ঝুঁকে শুনি
নিঃসঙ্গতার পাতালস্রোত
কীভাবে কাঁপিয়ে তোলে
তোমার ভেতরের অনির্বাণ ঝড়কে।
যে সর্বনাশ কবিতার পায়ে পায়ে
ঘুরে বেড়ায়,
তারও তো একদিন ক্লান্তি আসে,
একদিন সে ফিরে যায়
তারই জন্মঘরের গোপন অন্ধকারে।
তখন ছায়া আর ছায়াকে
ছুরির মত কেটে রাত অন্ধ নয়
বরং জেগে ওঠে
নতুন কান্নার প্রদীপ নিয়ে।
টেবিল-চেয়ার-বিছানার
সকল ছুটে-যাওয়া
হয়তো তোমার ভাষার উন্মূলন নয়,
বরং নিঃশব্দ অভিবাসন,
যেখানে শব্দেরা নতুন ভূমি খোঁজে
নিজেদের পুনর্জন্মের জন্য।
তুমি বলো,
তোমার কোন ঘর নেই, স্বর নেই
কিন্তু আমি দেখি,
তোমার বুকের ভিতর
এক অদৃশ্য জনপদ জেগে আছে
শব্দহীন সঙ্গীতে।
উপমা-রূপক-অলঙ্কারের
ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলেও
তোমার নিঃশ্বাসেই তো লুকিয়ে থাকে
আগুনের সম্ভাবনা।
অসময়ের কীটেরা মরুক
তাতে দুঃখ কোথায়?
তাদের মৃত্যু থেকেই তো জন্ম নেয়
এক নতুন ভাষা,
যেখানে খইফোটা অক্ষরগুলো
আবার সাজিয়ে নেওয়া যায়
একটি জাগরণী কবিতার ভোরে।
সেই ভোরে লক্ষ্যহারা শব্দের উপর পা রেখে
নতুন শেকড় গড়ে কবিতা
ভূগোলহীন হৃদয়েরদিকে।
প্রদ্যোত