আদির অনন্তযাত্রা
আদির অনন্তযাত্রা
নিস্তব্ধতার এক নামহীন প্রান্তরে
আমি দাঁড়িয়ে আছি-
কেউ নেই, কিছু নেই, কোথাও কোনো পদচিহ্ন নেই।
শুধু এক অদ্ভুত শূন্যতা
যেন মহাশূন্যের বুক ভেঙে নেমে এসেছে
আমার চারপাশে..
নিভৃত নক্ষত্রের মতো
আমার মনও নিঃসঙ্গ আজ-
কোনো সঙ্গী নেই, কোনো প্রতিধ্বনি নেই,
শুধু নিজের হৃদস্পন্দনের মৃদু শব্দ
এই অনন্ত অন্ধকারে
একটি ক্ষুদ্র ঢেউ তোলে..
চারিদিকে নৈঃশব্দ্যের সমুদ্র,
সময়ের গভীর অতল গহ্বর।
আমি হেঁটে চলেছি-
অন্তহীন অন্ধকার পথ পেরিয়ে,
যেন কোনো অদৃশ্য আহ্বান
আমাকে টেনে নিচ্ছে
অজানা কোনো ভোরের দিকে..
হাতে আমার একটিমাত্র আলো-
ক্ষুদ্র, অথচ অনন্ত।
একটি আলোকশিখা,
যেন মহাকালের হৃদয় থেকে
চুরি করে আনা কোনো জ্যোতি..
পেছনে তাকাই-
সেখানে শুধু অন্ধকার।
যে পথ হেঁটে এসেছি
তা গিলে খেয়েছে রাত্রির গভীরতা।
আমার পদচিহ্নগুলো
নিভে গেছে সময়ের নিঃশ্বাসে।
সামনে তাকাই-
সেখানেও কিছু নেই।
কোনো দিগন্ত নেই, কোনো গন্তব্য নেই,
শুধু এক বিস্ময়কর শূন্য বিস্তার
যেন সৃষ্টির আগের মুহূর্ত..
আমি একা-
কিন্তু এই একাকীত্ব কোনো দুঃখ নয়,
বরং এক গভীর সাধনা।
আমার মন একা-
তবু তার ভেতরে জেগে আছে
এক মহাজাগতিক গান।
যেন অসংখ্য যুগ আগে
কোনো অদৃশ্য ঋষি
আমার আত্মার ভেতরে
একটি মন্ত্র রেখে গিয়েছিল..
আমি এগিয়ে চলেছি-
ধীরে, নিঃশব্দে, অবিচল।
মহাকালের অন্ধকার নদী পেরিয়ে
একটি আলোকশিখা হাতে..
এই আলো শুধু পথ দেখায় না-
এ আলোই আমার সঙ্গী,
এ আলোই আমার প্রশ্ন,
এ আলোই আমার উত্তর..
কখনো মনে হয়
এই আলোকশিখা আমি বহন করছি না,
বরং এই আলোই আমাকে বহন করছে..
অন্ধকারের বুক চিরে যখন আমি হাঁটি,
তখন মনে হয়
আমি একা কোনো মানুষ নই-
আমি যেন এক প্রাচীন যাত্রী,
যে যুগের পর যুগ
সৃষ্টির গভীর রহস্য খুঁজে বেড়াচ্ছে..
কেউ নেই-
তবু এই শূন্যতায়
অদৃশ্য এক উপস্থিতি আছে..
কিছু নেই-
তবু এই ‘নেই’-এর মাঝেই
সবকিছুর বীজ লুকিয়ে আছে..
এই অন্তহীন শূন্যতা
হয়তো কোনো শূন্যতা নয়,
হয়তো এটাই সৃষ্টির গর্ভ..
আর আমি,
এক ক্ষুদ্র মানুষ, এক নিঃসঙ্গ পথিক,
মহাকালের অন্ধকারে
একটি ক্ষুদ্র আলো নিয়ে চলছি..
হয়তো সামনে কিছুই নেই,
হয়তো সামনে আছে এক নতুন সূর্যোদয়..
কিন্তু ততক্ষণ আমি হাঁটব,
নিভে না যাওয়া সেই আলোকশিখা হাতে
অজানার দিকে..
প্রদ্যোত / ১৪ মার্চ ২০২৬