ঝাক্কি দিয়া ওঠ্ ২.০
ঝাক্কি দিয়া ওঠ্ ২.০
রুখে দাঁড়া, বাংলার জুয়ান!
রক্ত দিয়া কেনা দ্যাশ,
রক্ত দিয়া!
কোনো শপিংমলের অফারে পাওয়া মাল না,
কোনো বিদেশি কোম্পানির
ব্র্যান্ডেড প্যাকেট না,
কোনো ইউটিউব শর্টসের
পনের সেকেন্ডের ভিডিও না!
এই দ্যাশ, মায়ের ছিঁড়া আঁচল,
শহীদের জমাট রক্ত,
বধ্যভূমির কঙ্কাল,
আর লক্ষ মায়ের বুকফাটা কান্দনের
জমাট ইতিহাস!
ভাবছিলাম, একাত্তরের আগুন
চিরদিন জ্বলবো।
ভাবছিলাম, শহীদের রক্ত
চিরদিন পথ দেখাইবো।
ভাবছিলাম, বাংলার জুয়ান
মাথা নোয়াইবো না কখনো।
কিন্তু আইজ!
কতগুলা বেজন্মা মতলববাজ
ইতিহাসের বুকের উপর
কোদাল চালাইতেছে!
মুক্তিযুদ্ধরে বানাইতে চায় বিতর্ক,
শহীদরে বানাইতে চায় সংখ্যা,
রাজাকাররে বানাইতে চায় দেশপ্রেমিক,
আর সত্যরে বানাইতে চায় অপরাধ!
দেখছস?
যেই বিষধর সাপটারে একদিন পিটাইয়া মাইরা
মাটির নিচে পুঁইতা রাখছিলাম,
হেই সাপের ডিম
আইজ আবার ফুটতেছে!
কখনো ধর্মের নামে,
কখনো রাজনীতির নামে,
কখনো স্বাধীন মতের নামে,
কখনো মানবতার নামে!
মুখে মধু, বুকে বিষ,
হাসিতে আলো, অন্তরে আঁন্ধার!
আর মোগো পোলাপান?
কেউ টিকটকের তালে তালে
জীবনের মানে হারাইতেছে।
কেউ রিল বানাইতে বানাইতে
বাস্তবতার লগে সম্পর্ক ছিঁড়া ফালাইতেছে।
কেউ বিদেশি নকলের নেশায়
নিজের ভাষাডারে লজ্জা পায়।
কেউ নিজের ইতিহাস জানে না,
কিন্তু হাজার মাইল দূরের
তারকার প্রেমে পাগল!
ওরে!
যে জাতি নিজের ইতিহাস ভোলে,
সে জাতি ভবিষ্যৎও হারায়!
মনে রাখিস!
দ্যাশ কেবল মানচিত্র না।
দ্যাশ কেবল পতাকা না।
দ্যাশ কেবল জাতীয় সঙ্গীত না।
দ্যাশ হইলো- ভাষা, সংস্কৃতি, স্মৃতি,
চেতনা, সাহস, প্রতিরোধ,
আর মাথা উঁচা কইরা বাঁচার অধিকার!
আইজ যুদ্ধ অন্যরকম।
আইজ ট্যাংক আসে না সবসময়,
কিন্তু মগজ দখল হয়।
আইজ বোমা পড়ে না সবখানে,
কিন্তু বিবেক ভাঙে।
আইজ বন্দুকের গুলি কম,
কিন্তু মিথ্যার গুলি বেশি!
ফেসবুকের নিউজফিডে,
ইউটিউবের অ্যালগরিদমে,
ভন্ডামির মঞ্চে,
অর্ধসত্যের বাজারে,
অজ্ঞতার মিছিলে,
দালালির করতালিতে-
চুপিচুপি চলতেছে নতুন যুদ্ধ!
আর তুই?
তুই যদি ঘুমাস,
আগামীকাল তোর সন্তান
ইতিহাস চিনবো না।
তুই যদি চুপ থাকস,
আগামীকাল সত্য কথা কওয়া
অপরাধ হইয়া যাইবো।
তুই যদি মাথা নামাস,
আগামীকাল স্বাধীনতা
খাঁচার মইধ্যে বন্দী হইবো।
ওরে বাংলার জুয়ান!
তোর রক্তে কি
পদ্মা নাই?
তোর রক্তে কি
মেঘনা নাই?
তোর রক্তে কি
যমুনা মধুমতির ঢেউ নাই?
তোর শিরায় কি
সূর্যসেন নাই?
তিতুমীর নাই?
প্রীতিলতা নাই?
সালাম-বরকত নাই?
রফিক-জব্বার নাই?
একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধার
বজ্রশপথ নাই?
তাই কই-
আগে বই পড়!
আগে ইতিহাস জান!
আগে সত্য চিন!
আগে মিথ্যার মুখোশ ছিঁড়!
কারণ, অশিক্ষিত আবেগ বিপজ্জনক।
কিন্তু জ্ঞানী দেশপ্রেম
অপরাজেয়!
আগে মানুষ হ!
তারপর সৈনিক হ!
আগে বিবেক জাগা!
তারপর প্রতিবাদ কর!
যেইখানে অন্যায়,
সেইখানে দাঁড়া!
যেইখানে মিথ্যা,
সেইখানে গর্জা!
যেইখানে রাজাকারি চিন্তা,
সেইখানে আগুন হ!
দরকার নাই বন্দুকের।
দরকার নাই বারুদের।
দরকার-
সাহস।
সততা।
জ্ঞান।
ঐক্য।
আর অবিনাশী দেশপ্রেম!
কারণ,
একটা জাতি
বাইরের শত্রুর হাতে
যতবার না মরে,
তার চাইতে বেশি মরে
নিজের ভিতরের পচনে!
এ্যাহোনও সময় আছে!
বুকের ভিতর
শহীদের রক্তের ডাক শুন!
চোখের ভিতর
বাংলার সূর্য উঠাইয়া নে!
মাথার ভিতর
সত্যের পতাকা উড়া!
আর এক ঝাক্কিতে
ঘুম ভাঙাইয়া দে
পুরা জাতির!
ঝাক্কি দিয়া ওঠ্!
এখনই ওঠ্!
কারণ, বাংলাদেশ কেবল
আমাগো উত্তরাধিকার না,
বাংলাদেশ আমাগো দায়িত্ব!
আর এই দায়িত্বের পাহারাদার
তোরাই!
তোরাই!
তোরাই!
প্রদ্যোত / ০৯ জুন ২০২৬