← Back to poetry
❧

স্বাধীনতা আছে?

Poetry

স্বাধীনতা আছে?

একাত্তরে পাকিরা জিতলে
শহীদ মিনারের স্থানে মসজিদ নির্মিত হতো
এমনই পরিকল্পনা ও কথোপকথন চলছিল তখন
পাকসেনা আর ওদের দোসর দেশীয় নাপাক হায়নাদের মাঝে
এমন সব পরিকল্পনা এখনো চলে
পরাজিত শক্তির গোপন আস্তানায়

আমরা স্বাধীনতার কথা বলি
স্বাধীন দেশের নাগরিক বলে গর্বিত হই
যদি চেতনার একটু গভীরে প্রবেশ করি
সহসাই বুঝতে পারবো
কীসের স্বাধীনতা!
কার স্বাধীনতা!
কোথায় স্বাধীনতা!
কীসের মধ্যে স্বাধীনতা!

মাত্র নয় মাসে স্বাধীনতা হয়!
কতজন মুক্তিকামী যুদ্ধে গিয়েছিল?
তখনকার সব বাঙালির প্রাণে কি
স্বাধীন হবার আকাংখা ছিল?
একাত্ম হতে পেরেছিল কি তারা সকলে?
একটা মানচিত্র খচিত পতাকা তলে
কতজন এসেছিল দলবেঁধে?
সামগ্রিক জনসংখ্যার পাঁচ শতাংশ হবে কি?
পালাই পালাই করে স্বাধীনতা হয় না!
কিংবা পলায়নপর ভীরুদের জন্য স্বাধীনতা নয়।

দেশের অধিকাংশ মানুষই
প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমরে অংশ নেয়নি,
বেশির ভাগেই লুকিয়ে থেকেছে
বাদবাকিরা গয়না-টাকা পুটলিতে বেঁধে
হয় প্রত্যন্ত গ্রামে কিংবা ওপারে পালিয়েছে
ইদানিং আবার অনেককেই গর্ব করে বলতে শোনা যায়
‘আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি!’
মুক্তিযুদ্ধ দেখে বড়ই গর্বের কর্ম সাধন করেছেন!
রাস্তায় দাড়িয়ে যেকোনো দশজনকে
দেশ ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে
সহজতম দশটি প্রশ্ন করে দেখুন
নিজেই বোকা বনে যাবেন উত্তর শুনে

বলতে দ্বিধা নেই
প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজন করে শহীদ হলে
কিংবা নিকটাত্মীয়দের মধ্যে
কমপক্ষে একজন করে বীরাঙ্গনা থাকলে
হয়তো স্বাধীনতার মর্ম বুঝতে আমাদের এতটা
বেগ পেতে হতোনা

যদি এখনই আবার স্বাধীনতা হুমকির সম্মুক্ষীন হয়
বেঁধে যায় অনাকাংখিত গৃহযুদ্ধ বা দ্বিতীয়বার মুক্তিযুদ্ধ
রাজনৈতিক নেতারা মুহুর্তেই হবেন লাপাত্তা
বুর্জুয়া ব্যবসায়ীরা যাবতীয় সম্পদের সাথে
নিজেরাও পগাড় পাড়
তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা বিশেষ নিরাপত্তায় অধরার রাজ্যে
আর যেগুলো সারা বছর বসদের প্যাদানি খেয়ে
নয়টা-পাঁচটা আর লাঞ্চ-বক্সে অভ্যস্ত
তল্পি-তল্পা গুটিয়ে প্রথমত শহর ছাড়া
অতঃপর দাদাদের ওপারে ম্লেচ্ছের জীবন যাপন

সম্মুখ সমরে আসবে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর
দেশপ্রেমিক কতিপয় সেনানী
রাস্তায় খেঁটে খাওয়া শ্রমিক জনতা
তারুন্যে উদ্দীপ্ত কিছু যুবক-যুবতী
আর আজীবন মুক্তিকামনায় উন্মুখ কয়েকজন পেশাজীবী
ঠিক যেমনটা ঘটে ছিল একাত্তরে

আমাদের মধ্যে নেই ঐক্য, সাম্য, মৈত্রী, দেশাত্মবোধ
আর দেশপ্রেমে মানুষকে উদ্বুদ্ধই বা করবেন কীভাবে
যার গায়ে নেই বসন, পেটে ক্ষুধা, বেহাল জাগতিক জীবন
তার কাছে কী ভারত, কী পাকিস্তান
কী-ই বা বাংলাদেশের মানে
সে যে আজন্ম পরাধীন, আমাদের মতো

নিবিড় বিশ্লেষণে দেখা যাবে
আমাদের জাতিগত ঐক্য ক্রমশ ক্ষয়ে যাচ্ছে
একাত্তরের থেকেও আমরা এখন দুর্বল
কারণ আমরা অধিকতর স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক হয়েছি

কীসের স্বাধীন আমরা?
কেমন ধরনের স্বাধীন?

দেশ, দেশের প্রতিটি মানুষ
দেশের যাবতীয় সম্পদ, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য
ভাষা, সংগীত, সাহিত্য
এমনকি প্রতিটি ধুলিকনাকে যেদিন
সবাই আপন অনুভব করবে
সেদিন বুঝবো স্বাধীনতা আসছে..

প্রদ্যোত

✦