← Back to poetry
❧

সত‍্যশ্রীকান্ত

Poetry

সত‍্য শ্রীকান্ত

অধর্মের অভ‍্যুত্থানের পূর্বাভাসে
মানবতার ত্রাতা হয়ে
সত্য ও শ্রীকান্তের কার্তিক মানস পূরণে
সত্য-শ্রীকান্ত রূপে তার আগমন।
কেউ জানত না-
সে ছিল না কেবল একটি শিশুর জন্ম;
সে ছিল একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার
প্রথম উচ্চারণ।

তার দুটি বিস্মিত চোখে
ভোরের মতো উন্মুক্ত ছিল অজস্র প্রশ্ন।
তার ক্ষুদ্র দুটি হাতে
অদৃশ্যভাবে ধরা ছিল ভবিষ্যতের অনলশিখা।
তার নীরব ঠোঁটে অলিখিত ছিল
একটি মহাকাব্যের প্রথম পঙ্‌ক্তি।

সে এসেছিল
কোনো সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হয়ে নয়,
কোনো রাজমুকুটের দাবিদার হয়ে নয়-
সে এসেছিল মানুষের অন্তরে
মানুষকে ফিরিয়ে দিতে।

তার চারপাশে যে প্রদীপ জ্বলছিল,
তা কেবল মাটির প্রদীপ ছিল না-
ছিল অন্তরাত্মার দীপ,
যার শিখা বলে-
অন্ধকারকে ঘৃণা করো না,
একটি আলো জ্বালাও।

যে বাঁশি নীরবে পড়েছিল,
তা কেবল সুরের আহ্বান নয়-
ছিল হৃদয়ের ডাক,
যেখানে বিভেদের ভাষা একদিন মিলিয়ে যাবে
মানবতার একমাত্র রাগিণীতে।

যে ময়ূরপুচ্ছ নিভৃত আলোয় দীপ্ত ছিল,
তা অহংকারের অলংকার নয়-
ছিল সৌন্দর্যের বিনয়, সৃষ্টির রঙধনু,
যেখানে প্রত্যেক প্রাণ নিজের রঙে
সমান সত্য।

যে গাভী তার শিশুকে পাশে নিয়ে দাঁড়িয়েছিল,
সে বলেছিল-
পৃথিবীকে জয় করতে হলে
পৃথিবীকে আগে মায়া দিয়ে ভালোবাসতে হয়।

আর যে প্রাচীন বাণী
যুগের পর যুগ অগ্নির মতো জ্বলেছে,
তার মর্ম ছিল একটাই-
মানুষ, নিজেকে জয় করো;
তবেই জগৎ তোমার কাছে আপন হবে।

আমি এসেছিলাম,
কারও বিরুদ্ধে নয়, অসত্যের বিরুদ্ধে।
আমি এসেছিলাম,
কারও ধর্ম কেড়ে নিতে নয়,
প্রত্যেক হৃদয়ের
নিজস্ব আলোককে জাগিয়ে তুলতে।
আমি এসেছিলাম,
নতুন কোনো পৃথিবী গড়তে নয়,
এই পৃথিবীকেই
মানুষের উপযুক্ত করে তুলতে।

যেখানে শিশুর কান্না হবে না ক্ষুধার,
নারীর চোখ হবে না অপমানের,
বৃদ্ধের নিঃশ্বাস হবে না পরিত্যাগের,
আর কবিতার কাজ হবে না
শুধু শব্দ সাজানো-
বরং, মানুষের অন্তরে মানুষকে জাগিয়ে তোলা।

যদি কোনোদিন
আমার নাম মুছে যায়,
মুছে যাক।
যদি কোনোদিন আমার মুখ
ভুলে যায় পৃথিবী,
ভুলে যাক।
শুধু থেকে যাক
একটি দীপশিখা-
যা একজন থেকে আরেকজনে,
এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে
নিভে না গিয়ে জ্বলে থাকবে।
কারণ, আমার জন্মের প্রকৃত অর্থ
আমার মধ্যে নয়-
যে আলো আমি অন্যের মধ্যে জ্বালাতে পারি,
সেই আলোর মধ্যেই আমার আবির্ভাব।

আর যতদিন একটি শিশুর বিস্মিত চোখে
ভবিষ্যৎ জেগে উঠবে,
যতদিন একজন মানুষ
আরেকজন মানুষের হাত ধরে বলবে-
“চলো, পৃথিবীকে একটু সুন্দর করি”
ততদিন আমি জন্ম নেব,
আবারও, আলোর সন্তান হয়ে।

প্রদ্যোত

✦