বিষাদ জানালার ওপারে
বিষাদ জানালার ওপারে
যে জানালায় অসংখ্য সূর্যাস্তের রক্তিম সাক্ষর,
সেই কাচেই একদিন
প্রথম সূর্যের সোনালি আঙুল
লিখে দেবে নতুন জীবনের নাম।
যে কফির কাপে
শুধু উচ্ছিষ্ট আর নিঃসঙ্গতা জমেছিল,
একদিন সেই কাপেই কারও অনাবিল হাসি
চিনির মতো গলে যাবে।
তখন তিক্ততাও বুঝবে,
মিষ্টি হওয়া অসম্ভব নয়।
যে কাগজগুলো
তুমি ছিঁড়ে উড়িয়ে দিয়েছিলে আকাশে,
ভাবোনি তো- সেই ছেঁড়া অক্ষরগুলোই
পাখি হয়ে উড়তে শিখেছে!
কোনো শব্দ কখনও মরে না;
যে বাক্য উচ্চারিত হয়নি,
সে-ও একদিন কারও হৃদয়ে আশ্রয় খুঁজে নেয়।
জানালাটা যে কথা বলে না,
তার মানে এই নয়, সে কিছু জানে না।
নীরবতারও একটি ভাষা আছে।
সে প্রতিদিন তোমার কান্না জমিয়ে রেখেছে
শিশিরের মতো,
যেন একদিন সেই জলেই ফুটে ওঠে
একটি অচেনা পদ্মফুল।
ঋতুরা কখনও একই থাকে না।
শ্রাবণের ভেজা বিষণ্নতা
শিউলির সুবাসে বদলে যায়।
শীতের কুয়াশা একদিন সরেই যায়
ফাল্গুনের প্রথম রঙিন বাতাসে।
তাহলে হৃদয় কেন
চিরকাল একই অন্ধকারে থাকবে?
স্বপ্ন ভেঙেছে? ভাঙুক।
কাঁচ ভাঙলে যেমন
হাজার টুকরোয় সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়ে,
তেমনি ভাঙা স্বপ্নের ভেতর দিয়েই
কখনও কখনও সবচেয়ে বড় স্বপ্নের জন্ম হয়।
যে সিগারেটের ধোঁয়া
আকাশ ঢেকে দিয়েছিল,
একদিন সেই আকাশেই দূর নীলের ডানায়
এক ঝাঁক বুনো পাখি ফিরে আসবে।
যে ক্যাফেইন শুধু জেগে থাকার অভিশাপ ছিল,
একদিন সেই জেগে থাকাই
কাউকে বাঁচিয়ে রাখার কারণ হবে।
তাই আজ সন্ধ্যা এলেও
কফির কাপে শুধু শূন্যতা জমতে দিও না।
এক ফোঁটা বিশ্বাস রেখে দাও,
এক চিমটি ভালোবাসা,
একটি অসমাপ্ত কবিতা,
একটি অনাবিষ্কৃত সকাল।
প্রদ্যোত