চে : অগ্নিযুগের মহাকাব্য
চে : অগ্নিযুগের মহাকাব্য
চে-
নাম নয়,
প্রমিথিউসের মুষ্টি থেকে ছিটকে পড়া
অগ্নির অমর উত্তরাধিকার।
চে-
শব্দ নয়,
সহস্র বছরের শৃঙ্খলভাঙা মানুষের
রক্তে রচিত বজ্র-উপনিষদ।
চে-
মানুষ নয়,
অত্যাচারের বক্ষ বিদীর্ণ করা
মহাকালের অগ্নিধ্বনি।
শোষিতের অশ্রুতে দীপ্ত
লাল সূর্যের জয়ধ্বজা,
দাসত্বের কারাগারে বন্দী পৃথিবীর
মুক্তির প্রথম মহামন্ত্র।
আন্দিজের শৃঙ্গে শৃঙ্গে
গর্জন তোলা বিদ্রোহী মেঘ,
আমাজনের অরণ্যে অরণ্যে
স্বাধীনতার দুর্বার ঝঞ্ঝা,
লাতিন আকাশে জেগে ওঠা
দিগন্তভাঙা রক্তিম ধূমকেতু।
অন্যায়ের সিংহাসন-ভঞ্জক
প্রলয়পুরুষ,
স্বৈরতার দুর্গে নিক্ষিপ্ত
জাগ্রত অগ্নিশলাকা,
ক্ষমতার কপালে উৎকীর্ণ
অবিনাশী প্রত্যাখ্যানের স্বাক্ষর।
ক্ষুধার্ত শিশুর চোখে
অন্নের স্বপ্ন,
নির্যাতিত শ্রমিকের হাতে
অধিকারের পতাকা,
অবমানিত মানুষের কণ্ঠে
প্রতিবাদের মহাসংগীত।
দ্রোহের রুদ্রবীণা,
বিপ্লবের রক্তগোলাপ,
আত্মত্যাগের হিমগিরি,
সাহসের মহাসমুদ্র,
মানবতার জ্যোতির্ময় ধ্রুবতারা।
যেখানে সাম্রাজ্যের বুটের নিচে
মানুষের মুখ থেঁতলে যায়,
সেখানে বজ্রনিনাদী অভিশাপ, চে!
যেখানে লুণ্ঠিত হয়
ঘামের ন্যায্য মূল্য,
সেখানে মুষ্টিবদ্ধ ঝড়, চে!
যেখানে ভয়ের কালো পতাকা উড়ে,
সেখানে রক্তিম সূর্যোদয়ের
অপরাজেয় ভবিষ্যদ্বাণী, চে!
চে-
কোনো সমাধি নয়-
মহাদেশব্যাপী স্পন্দন।
কোনো প্রতিকৃতি নয়-
অসংখ্য ব্যারিকেডের
জাগ্রত অগ্নিপতাকা।
কোনো অতীত নয়-
প্রতিটি নতুন বিদ্রোহের
অদৃশ্য জন্মদাতা।
আজও মিছিলে মিছিলে,
স্লোগানে স্লোগানে,
দুর্গম পর্বতের গোপন পথ ধরে,
কারখানার কালো ধোঁয়ার ভিতর,
কারাগারের রুদ্ধ প্রকোষ্ঠে,
রক্তাক্ত রাজপথের বুক জুড়ে
জেগে ওঠে একই অমর উচ্চারণ-
চে!
চে-
অগ্নির চেয়েও উজ্জ্বল।
চে-
সমুদ্রের চেয়েও গভীর।
চে-
পর্বতের চেয়েও অটল।
চে-
মৃত্যুর চেয়েও দীর্ঘজীবী।
যতদিন পৃথিবীতে
অন্যায়ের বিরুদ্ধে উচ্চারিত হবে
একটি মাত্র প্রতিবাদী কণ্ঠ,
যতদিন মুক্তির জন্য
একটি মাত্র মুষ্টি আকাশে উঠবে,
যতদিন মানুষের স্বপ্ন
শৃঙ্খল মানতে অস্বীকার করবে-
ততদিন ইতিহাসের প্রতিটি রণাঙ্গনে,
প্রতিটি বিপ্লবের রক্তিম ভোরে,
প্রতিটি মুক্তিকামীর হৃদয়ের গভীরে
জ্বলবে এক অনির্বাণ মহাশিখা-
চে!
প্রদ্যোত / ১৪ জুন ২০২৬