চলো, আবার শৈশবে ফিরি
চলো, আবার শৈশবে ফিরি
চলো, আবার শৈশবে ফিরি।
এই ক্লান্ত শতাব্দীর ধুলো
পায়ের পাতা থেকে ঝেড়ে ফেলে
চলো ফিরে যাই
সেই প্রথম সকালের কাছে-
যেখানে আমাদের হাসির জন্যই
প্রথম একটি ফুল ফুটেছিল।
চলো, আবার হাত ধরি।
আমি আলোকিত তুলিতে
তোমার নীরব ক্যানভাসে
ভোরের প্রথম অক্ষরটি লিখে দিই;
তুমি তোমার সাতরঙা রংতুলি দিয়ে
আমার আলোকে ছড়িয়ে দাও
রংধনুর অনন্ত বিস্ময়ে।
আমাদের যত অপ্রাপ্তি,
যত অসমাপ্ত স্বপ্ন,
যত না-বলা কবিতা,
যত অশ্রু হয়ে ঝরে পড়া বসন্ত-
সব কুড়িয়ে আনি।
এসো, আজ সেগুলো দিয়েই
নতুন পৃথিবীর প্রথম খেলাঘর গড়ি।
হিমালয়ের পাদদেশে
কৈলাসের শুভ্র নীরবতাকে সাক্ষী রেখে
ফুলের সুরভি মেখে,
শিশিরের স্বচ্ছতা পরে,
মেঘের কোমলতা কাঁধে তুলে
আমরা আবার পৃথিবীর কপালে
একটি শিশুর হাসি এঁকে দিই।
যেন প্রতিটি গোলাপ
একটি প্রেমের পঙ্ক্তি হয়ে ফোটে,
প্রতিটি শিউলি
ভোরের প্রার্থনা হয়ে ঝরে,
প্রতিটি কৃষ্ণচূড়া
রক্তিম হৃদয়ের উৎসব হয়ে জ্বলে ওঠে।
চলো, আমরা আবার বাতাসকে গান শেখাই।
যেন প্রতিটি পাখি
আমাদের অদেখা কবিতার সুর গায়,
প্রতিটি নদী
আমাদের স্বপ্নের ছন্দ বয়ে নিয়ে যায়,
প্রতিটি সমুদ্রের ঢেউ
আমাদের আহ্বানকে
দিগন্ত থেকে দিগন্তে পৌঁছে দেয়।
চলো, আমরা আবার সৃষ্টি শুরু করি।
কারণ পৃথিবী শক্তির দ্বারা নয়,
প্রেমের দ্বারা জন্মেছিল।
মহাকালের প্রথম অন্ধকারে
একটি আলোর বিন্দু
একটি রংয়ের স্পর্শকে ডেকেছিল-
সেই আহ্বান থেকেই
জেগে উঠেছিল নক্ষত্র,
বনভূমি,
বৃষ্টির গন্ধ,
মানুষের হৃদয়।
আজও সেই আহ্বান
অপূর্ণ রয়ে গেছে।
তাই আমি আবার তোমাকে ডাকি-
এসো, আমার আলোর ভিতর
তোমার অনন্ত রঙের নিশ্বাস মিশিয়ে দাও।
আমরা দুটি শিশুর মতো
আবার ফুল কুড়াই,
আবার প্রজাপতির পিছু ছুটি,
আবার আকাশের নীল রঙে
নিজেদের নাম লিখি।
তারপর জন্ম নিক আরও এক পৃথিবী।
যেখানে ঘৃণার কোনো ভাষা থাকবে না,
যেখানে যুদ্ধের কোনো অভিধান থাকবে না,
যেখানে প্রতিটি শিশুই
প্রথমে কবিতা শিখবে,
তারপর মানুষ হবে।
আর যদি সময়
আবার আমাদের নাম মুছে দেয়,
তবু কী আসে যায়?
আমরা তো নাম নই।
আমি আলো-
যে অন্ধকার ভেদ করে ফিরে আসে।
তুমি রংতুলি-
যে শূন্য ক্যানভাসে প্রাণের উৎসব আঁকে।
তাই জন্মের পর জন্ম,
যুগের পর যুগ,
জাতিস্মরের গভীর স্মৃতি বুকে নিয়ে
আমরা আবার ফিরব-
হিমালয়ের পাদদেশে,
কৈলাসের শ্বেত নীরবতার নিচে,
ফুলের সুরভি মেখে,
রংধনুর সাতরঙা আলো গায়ে জড়িয়ে,
একটি মাত্র কাজের জন্য-
প্রেমকে আবার পৃথিবীর প্রথম ভাষা করে তুলতে।
প্রদ্যোত