গুন্ডাদের খেলাঘর
গুন্ডাদের খেলাঘর
বিশ্বের আকাশ আজ দমবন্ধ গুমোট-
ট্রাম্পের দম্ভ, পুতিনের লৌহচোখ,
জেলেনস্কির নির্লজ্জ হাসি,
নেতা নিয়াহুর আগ্রাসন,
কিম জং উনের মিসাইলভর্তি বুক,
শি জিনপিংয়ের ঠাণ্ডা পরিকল্পনার ছায়া-
সবাই মিলে সাজিয়েছে এক যুদ্ধের সার্কাস।
মানবতার মঞ্চে তারা নৃত্য করে-
মৃত্যুর নৃত্য, রক্তের নৃত্য,
যেখানে প্রতিটি ড্রোনের পাখা
ফাঁসির দড়ির মতো জড়িয়ে ধরে
নিরীহ মানুষের স্বপ্ন।
শিশুরা খেলে না এখন কচি মাঠে,
তাদের চোখে ধোঁয়া, তাদের কানে সাইরেন,
তাদের কণ্ঠে শ্লেষের বদলে
শুধু আর্তনাদ- “আমাদের বাঁচাও!”
কিন্তু গুন্ডারা শোনে না-
তাদের কানে যুদ্ধের বাজনা,
তাদের হাতে তেলের সিন্দুক,
তাদের জিভে ক্ষমতার নেশা,
তাদের বুকে নেই কোনো হৃদয়-
শুধু বোমার টিকটিক শব্দ।
ওরা যখন শান্তির কথা বলে
তখনও দাঁত বেরিয়ে থাকে,
শপথের কালি লেগে থাকে
অসহায়দের রক্তে।
ওরা তথাকথিত শান্তির পতাকা ওড়ায়,
কিন্তু পতাকার ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে রাখে
অস্ত্র ব্যবসায়ীর খুশির অশ্রু।
কত মায়ের কোলে শূন্যতা-
যুদ্ধের কামড়ে সন্তানহারা;
কত নদীর বুকে রক্ত-
আগ্রাসনের বন্যায় ভেসে গেছে শস্যক্ষেত;
কত শহর, কত গ্রাম-
লোভ আর বিদ্বেষের আগুনে ছাই হয়ে গেছে।
মানুষ! তুমি কি এখনও চুপ থাকবে?
তুমি কি এখনও টেলিভিশনের পর্দায়
যুদ্ধের খেলায় হাততালি দেবে?
তুমি কি এখনও ভেবেই যাবে-
এই আগুন আমার ঘরে আসবে না?
না!
এই আগুন পৃথিবীর প্রতিটি দরজায় কড়া নাড়বে,
এই ধোঁয়া প্রতিটি নিঃশ্বাসে ঢুকবে,
এই রক্ত প্রতিটি চোখে ছায়া ফেলবে।
জাগো মানুষ-
শান্তির মিছিল নিয়ে ওঠো,
অস্ত্রের শব্দকে ঢেকে দাও মানবতার স্লোগানে।
ওদের ক্ষমতার খেলা থামাও,
ওদের রক্তখেকো দাঁত ভেঙে দাও,
ওদের বোমার উপর রাখো
ভালোবাসার পতাকা।
যুদ্ধ চাই না, রক্ত চাই না,
চাই না আগ্রাসনের লোভ, বিদ্বেষের খাঁচা।
আমরা চাই মুক্ত পৃথিবী-
যেখানে শিশু হাসবে,
যেখানে মায়ের কোল ভরা থাকবে,
যেখানে আকাশে বাজবে শুধু
মানবতার গান।
গুন্ডাদের খেলা থামবে-
যখন মানুষের কণ্ঠ এক হবে,
যখন শান্তি হবে প্রতিবাদের আগুন,
যখন ভালোবাসা হবে
সবচেয়ে বড় বিপ্লব।
প্রদ্যোত / ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫