এবং পরোয়ানা
এবং পরোয়ানা
তোমরা মৃত্যুকে ভয় পাও বলে
সত্য থেকে দূরে থাকো।
তোমরা লোভী এবং স্বার্থপর বলে
সত্যকে ভয় পাও।
অথচ জন্মের মতোই মৃত্যুও
জীবনের অনিবার্য উচ্চারণ।
জন্ম যেমন অন্ধকার ভেদ করে
আলোর দিকে আসে,
মৃত্যুও তেমনি আলোর ভেতর দিয়ে
অজানার দরজা খুলে দেয়।
মৃত্যু কোনো অন্ধ কূপ নয়,
মৃত্যু জীবনেরই শেষ আয়না,
যেখানে দাঁড়িয়ে মানুষ
প্রথমবার নিজের মুখোমুখি হয়।
তোমরা অজ্ঞ বলেই ভয় তোমাদের গ্রাস করে।
অজ্ঞানতাই ভীতির প্রথম জননী।
অন্ধকার নিজের ছায়াকেও দৈত্য মনে করে,
অচেনা পথকে মনে করে অতল খাদ,
অজানা শব্দকে মনে করে মৃত্যুর পদধ্বনি।
আর যে মানুষ নিজের ভিতরে
জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালাতে পারে,
তার কাছে ভয় ধীরে ধীরে
কুয়াশার মতো গলে যায়।
কারণ জ্ঞান আলো, আর আলো কখনো
অন্ধকারের সঙ্গে আপস করে না।
যে সত্যজ্ঞানে আলোকিত,
ভীতির আঁধার তাকে ভয় পায়।
যেমন ভোরের কাছে রাত
তার কালো সাম্রাজ্য হারায়,
যেমন সূর্যের সামনে কুয়াশা
নিজের অস্তিত্ব ভুলে যায়,
তেমনি জাগ্রত চেতনার সামনে
ভয় তার মুখোশ খুলে ফেলে।
তখন মানুষ বুঝতে শেখে,
মৃত্যুকে এড়িয়ে জীবনকে রক্ষা করা যায় না,
সত্যকে অস্বীকার করে
অস্তিত্বকে পূর্ণ করা যায় না,
নিজেকে প্রতারণা করে
পৃথিবীকে প্রতারণা করা যায় না।
তোমাদের বোধ নিতান্তই আত্মকেন্দ্রিক বলে
ভীতির ধাঁধায় আটকে থাকো তোমরা।
নিজেকে পৃথিবীর কেন্দ্র ভেবে,
নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থকে মহাবিশ্বের বিধান মনে করো।
নিজের লোভকে প্রয়োজনের নাম দাও,
নিজের ভীতিকে প্রজ্ঞার পোশাক পরাও,
নিজের কাপুরুষতাকে কৌশল বলে চালাও,
নিজের আগ্রাসনকে শক্তি বলে প্রচার করো।
অথচ ভেতরে ভেতরে তোমাদের আত্মা জানে,
শূন্য হাতে এসেছিলে,
শূন্য হাতেই একদিন ফিরে যেতে হবে।
জীবনটাকে আলোকিত না করে,
জ্ঞানহীন ভীতির অন্ধকারে চুপসে থাকতে,
লজ্জা করে না তোমাদের?
এত নির্লজ্জ কেন তোমরা?
এত অন্ধ কেন তোমাদের অহংকার?
এত বধির কেন তোমাদের বিবেক?
আগামীর আলোকিত শিশুরা তোমাদের দিকে তাকিয়ে হাসে, কারণ তারা জানে,
তোমাদের তৈরি অন্ধকার তাদের ভবিষ্যৎ নয়।
তাদের চোখে যে সূর্য উঠছে, সে সূর্য
তোমাদের মিথ্যার উত্তরাধিকার বহন করবে না।
তোমরা যতই দেয়াল তোলো,
চেতনা তার চেয়েও উঁচু হয়ে ওঠে।
তোমরা যতই দরজা বন্ধ করো,
সত্য ততই জানালার ভেতর দিয়ে
আলো হয়ে ঢোকে।
তোমরা যতই কণ্ঠরোধ করো,
সময়ের বুকের ভেতর
ততই জন্ম নেয় নতুন উচ্চারণ।
কারণ সত্যকে হত্যা করা যায় না,
সত্যকে কবর দেওয়া যায় না,
সত্যকে নির্বাসনে পাঠানো যায় না।
সত্য নদীর মতো,
পাথর দিয়ে তার পথ রোধ করা যায়,
কিন্তু তার উৎসকে বন্দী করা যায় না।
গায়ের জোরে কিংবা প্রতিবন্ধী চৈতন্যের চিৎকারে
কোলাহল করে কোনো অর্জন হয় না।
শব্দ যত বড় হয়, সত্য তত বড় হয় না।
চিৎকার যত তীব্র হয়, যুক্তি তত গভীর হয় না।
মুষ্টি যত শক্ত হয়, বোধ তত দৃঢ় হয় না।
একটি অন্ধ হাতির মতো ক্ষমতা
নিজের শক্তির ভারেই একদিন পথ হারায়,
আর একটি ক্ষুদ্র প্রদীপ
নিঃশব্দে একটি ঘরকে বুঝিয়ে দেয়,
আলোর কোনো পেশিশক্তি লাগে না।
হিংস্রতা দিয়ে সাময়িক দাপটে,
নিজেকে যতই ঐশ্বর্যশালী ক্ষমতাবান ভাবো না কেন,
সময় তোমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে।
সময় এক নীরব বিচারক।
তার হাতে কোনো তরবারি নেই,
তবু তার রায় সবচেয়ে ধারালো।
তার কোনো সিংহাসন নেই,
তবু তার ক্ষমতা সব সিংহাসনের ঊর্ধ্বে।
সময়ের সত্য আলোর বজ্র
তোমাদের মিথ্যার প্রাসাদ ভেঙে দেবে,
যেমন বর্ষার বজ্রপাত শুকনো বৃক্ষের
অহংকার চূর্ণ করে,
যেমন নদী একদিন পাথরের বুকেও
নিজের পথ লিখে নেয়।
ক্রোধের বহিঃপ্রকাশে তোমাদের
বোধের ঘটের খবর পৌঁছে যায় লোকালয়ে।
মানুষ তোমাদের মুখের ভাষার চেয়ে
তোমাদের ক্রোধের ভাষা বেশি পড়ে।
কারণ ক্রোধ মানুষের ভিতরের দরজা খুলে দেয়।
সেখানে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার
নিজের ছায়া নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে।
তখন বোঝা যায়, কতটুকু জ্ঞান আর কতটুকু ভয়,
কতটুকু সাহস আর কতটুকু হীনমন্যতা,
কতটুকু সত্য আর কতটুকু অভিনয়,
একটি মানুষের উচ্চারণে বাস করে।
সেখানে শান্তিপ্রিয় মানবাত্মা বিরাজ করে এখনো।
সেখানে পুষ্প মঞ্জুরিত হয় জীবনের বোধে।
সেখানে শিশুর হাসি এখনো
পৃথিবীকে ক্ষমা করতে শেখায়।
সেখানে মায়ের চোখে এখনো করুণার নদী বয়ে যায়।
সেখানে কৃষকের ঘামে পৃথিবীর নৈতিকতা জন্ম নেয়।
সেখানে শ্রমিকের হাতে ভবিষ্যৎ তার অস্থি গড়ে।
সেখানে কবির কণ্ঠে সত্য,
শিশিরের মতো নরম, অথচ পর্বতের মতো অটল।
সেখানে তোমাদের বেবোধ দম্ভ
আর সুচতুর বাক্যালাপের
বহুরূপী গিরগিটিরূপ বেমানান।
মানুষের হৃদয়কে দীর্ঘদিন
অভিনয় দিয়ে ঠকানো যায় না।
তোমরা ভাবো মানুষকে বোকা বানিয়েছ।
আসলে তোমরা নিজেদেরই আয়নায় বন্দী করেছ।
তোমরা অন্যের চোখে ধুলো দাও,
কিন্তু নিজের বিবেকের চোখে ধুলো দিতে পারো না।
বিবেক এক অদৃশ্য আয়না।
তার সামনে কোনো প্রসাধন কাজ করে না,
কোনো প্রোটোকল কাজ করে না,
কোনো পদমর্যাদা কাজ করে না,
কোনো বাহুবল কাজ করে না।
সেখানে মানুষ কেবল মানুষ।
সেখানে ক্ষমতাবান আর ক্ষমতাহীন,
দুজনের শরীরেই একই মৃত্যুর ছায়া,
একই রক্তের উষ্ণতা,
একই শ্বাসের ক্ষণস্থায়িত্ব।
সত্যাশ্রয়ী স্বচ্ছন্দে বিরাজ করে সর্বত্র।
লোভী স্বার্থপর মিথ্যাজীবীরা লুকায়,
কিংবা প্রোটোকল নিয়ে চলে।
কারণ সত্যের নিজের কোনো পাহারা লাগে না।
মিথ্যার লাগে প্রহরী।
সত্যের লাগে না বিজ্ঞাপন,
মিথ্যার লাগে প্রচার।
সত্য নিজের পায়ে হাঁটে,
মিথ্যা অন্যের কাঁধে চড়ে এগোয়।
সত্যের মুখ সরল, মিথ্যার মুখে হাজার মুখোশ।
সত্য এক নদী, মিথ্যা তার ওপর আঁকা কৃত্রিম সেতু,
প্রথম বন্যাতেই যার কাঠামো ভেসে যায়।
অসাধারণ হতে গিয়ে কী পরিমাণ
ঘৃণা আর ধিক্কার জমা হয় তোমাদের ভান্ডে,
বোঝো? অবশ্যই বোঝো।
অন্যকে বোকা বানানোর খেলায়
যারা ভীষণ পটু, তারা নিজেদের
পরাজয় বুঝতে সবচেয়ে দেরি করে।
কারণ আত্মপ্রবঞ্চনা এমন এক মাদক,
যার নেশায় মানুষ নিজের পতনকেও
বিজয় বলে মনে করে।
নিজের ক্ষতকে পদক ভাবে,
নিজের পচনকে সুগন্ধি ভাবে,
নিজের পতনকে উত্থান বলে ঘোষণা করে।
কিন্তু পৃথিবী কোনো ঘোষণায় চলে না।
প্রকৃতি কোনো প্রচারপত্র পড়ে না।
সময় কোনো মিথ্যা সাক্ষ্যে বিশ্বাস করে না।
ইতিহাস কোনো ক্ষমতাবানের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।
মানুষের স্মৃতি কোনো কারাগারের তালায়
বন্দী থাকে না।
সত্যের নিজস্ব ভূগোল আছে,
তার নিজস্ব ঋতু আছে,
তার নিজস্ব জোয়ার আছে,
তার নিজস্ব বজ্র আছে,
তার নিজস্ব সূর্যোদয় আছে।
জেনে রেখো, লোভাতুর স্বার্থপরতা দিয়ে
কোনো টেকসই অর্জন হয় না।
ক্রোধোন্মত্ত আগ্রাসন দিয়ে
কোনো মহৎ সভ্যতা গড়ে না।
ভয় দেখিয়ে আনুগত্য পাওয়া যায়,
কিন্তু ভালোবাসা পাওয়া যায় না।
দণ্ড দিয়ে নীরবতা কেনা যায়,
কিন্তু সম্মতি কেনা যায় না।
ক্ষমতার ছায়ায় মানুষকে দাঁড় করানো যায়,
কিন্তু তার বিবেককে হাঁটু গেড়ে বসানো যায় না।
তোমরা যদি ভাবো,
মানুষের চোখ বেঁধে রাখলেই পৃথিবী অন্ধ হয়ে যাবে,
তবে তোমরা আকাশের ইতিহাস জানো না।
সূর্যকে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না।
বাতাসকে দেয়ালের ভেতর বন্দী রাখা যায় না।
সমুদ্রকে মুঠোয় ধরা যায় না।
পাখির ডানায় আইন লিখে
তাকে উড়তে শেখানো যায় না।
আর মানুষের চেতনায় একবার
সত্যের বীজ অঙ্কুরিত হলে,
তার শিকড় পৌঁছে যায় ইতিহাসের গভীরে,
তার ডাল ছুঁয়ে ফেলে ভবিষ্যতের আকাশ।
প্রকৃতির নিয়মে,
তোমাদের অনিয়মের ধ্বংস অনিবার্য।
কারণ প্রতিটি অন্যায়ের ভেতরেই
তার পতনের বীজ থাকে।
প্রতিটি অহংকার নিজের পতনের সিঁড়ি তৈরি করে।
প্রতিটি মিথ্যা নিজের কবরের মাটি বহন করে।
প্রতিটি অত্যাচার নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষী তৈরি করে।
আর প্রতিটি সত্য নিজের জন্য
একটি নতুন ভোরের জন্ম দেয়।
তোমরা হয়তো ভাবো,
আজ তোমাদের হাতে ক্ষমতা।
আজ তোমাদের পাশে কোলাহল।
আজ তোমাদের সামনে নত মাথা।
আজ তোমাদের চারপাশে ভয়ের দেয়াল।
কিন্তু মনে রেখো, ভয়ের সাম্রাজ্য যত উঁচু হয়,
তার পতনের শব্দ তত দূর পর্যন্ত শোনা যায়।
ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী। পদ ক্ষণস্থায়ী।
অর্থ ক্ষণস্থায়ী। দম্ভ ক্ষণস্থায়ী।
দেহ ক্ষণস্থায়ী। এমনকি স্মৃতিও ক্ষয়প্রবণ।
কিন্তু মানুষের জন্য মানুষের করা সত্য,
মানুষের জন্য মানুষের জ্বালানো আলো,
মানুষের মুক্তির জন্য উচ্চারিত একটি নির্মোহ শব্দ,
সেগুলো সময়ের ভেতর বীজ হয়ে থাকে।
একদিন তোমাদের প্রাসাদ থাকবে না।
থাকবে না তোমাদের প্রোটোকল।
থাকবে না তোমাদের প্রহরী।
থাকবে না তোমাদের কৃত্রিম মহিমা।
থাকবে কেবল প্রশ্ন। তোমরা কী রেখে গেলে?
ভয়ের উত্তরাধিকার, নাকি আলোর?
ঘৃণার উত্তরাধিকার, নাকি ভালোবাসার?
মিথ্যার উত্তরাধিকার, নাকি সত্যের?
সেই দিন ইতিহাস তোমাদের মুখের দিকে তাকাবে না।
তোমাদের পরিচয়ের দিকে তাকাবে না।
তোমাদের পোশাকের দিকে তাকাবে না।
তোমাদের ক্ষমতার পরিমাণও গুনবে না।
সে দেখবে, তোমরা মানুষকে
মানুষ হিসেবে দেখেছিলে কি না।
তোমরা সত্যকে সত্য বলে চিনেছিলে কি না।
তোমরা দুর্বলের পাশে দাঁড়িয়েছিলে কি না।
তোমরা নিজের অন্ধকারের বিরুদ্ধে
কোনোদিন যুদ্ধ করেছিলে কি না।
কারণ মানুষের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ
অন্য মানুষের বিরুদ্ধে নয়।
নিজের ভিতরের অজ্ঞতার বিরুদ্ধে।
নিজের লোভের বিরুদ্ধে।
নিজের ভয়কে অতিক্রম করার বিরুদ্ধে।
নিজের অহংকারকে ভাঙার বিরুদ্ধে।
নিজের মিথ্যাকে চিনে ফেলার বিরুদ্ধে।
যে মানুষ নিজের ভিতরের অন্ধকারকে
জয় করতে পারে,
সে পৃথিবী জয় না করেও বিজয়ী।
যে মানুষ সত্যের সামনে
নিজের অহংকার নামিয়ে রাখতে পারে,
সে ক্ষমতাহীন হয়েও মহাশক্তিমান।
যে মানুষ মৃত্যুকে জীবনের
স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে গ্রহণ করতে পারে,
সে মৃত্যুর আগেই মুক্ত।
আর যে মানুষ সত্যকে ভয় পায় না,
তার জন্য পৃথিবীর কোনো কারাগারই যথেষ্ট বড় নয়।
তাই তোমাদের জন্য এই পরোয়ানা।
কোনো আদালতের নয়।
কোনো শাসকের নয়।
কোনো অস্ত্রের নয়।
এটি সময়ের পরোয়ানা।
এটি বিবেকের পরোয়ানা।
এটি সত্যের পরোয়ানা।
এটি সেই আলোর পরোয়ানা,
যে আলো একদিন
তোমাদের সমস্ত মুখোশ খুলে দেবে।
পালানোর পথ থাকবে না।
কারণ নিজের কাছ থেকে কেউ পালাতে পারে না।
অন্ধকারে লুকিয়ে থাকলেও ভোর আসবে।
মিথ্যার দুর্গে আশ্রয় নিলেও সত্য আসবে।
ক্ষমতার আড়ালে দাঁড়ালেও সময় আসবে।
আর মৃত্যু এড়িয়ে চললেও,
মৃত্যু তার নির্ধারিত দরজায় এসে দাঁড়াবে।
তখন বুঝবে, মৃত্যুকে ভয় পাওয়ার চেয়ে
অন্ধকারে বেঁচে থাকাই ছিল বড় মৃত্যু।
সত্যকে ভয় পাওয়ার চেয়ে
নিজের মিথ্যার মধ্যে বাস করাই ছিল বড় কারাগার।
জ্ঞানকে অস্বীকার করার চেয়ে
অজ্ঞতাকে আঁকড়ে থাকাই ছিল বড় আত্মহনন।
তখন হয়তো বুঝবে,
জীবন কোনো ভোগের নাম নয়।
জীবন এক আলোকিত দায়িত্ব।
জীবন কেবল শ্বাস নেওয়া নয়।
জীবন নিজের ভিতরে একটি সূর্য জ্বালানো।
জীবন কেবল নিজের জন্য বেঁচে থাকা নয়।
জীবন অন্যের অন্ধকারে একটি প্রদীপ রেখে যাওয়া।
আর সেই দিন,
যারা সত্যকে ভালোবেসেছিল,
তারা মৃত্যুর ওপার থেকেও আলো হয়ে থাকবে।
যারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল,
তারা সময়ের বুকের ভেতর নদীর মতো বয়ে যাবে।
যারা জ্ঞানের প্রদীপ জ্বেলেছিল,
তাদের আলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়বে।
তোমরা যারা ভয়কে ধর্ম বানিয়েছিলে,
লোভকে নীতি বানিয়েছিলে,
ক্ষমতাকে সত্য বানিয়েছিলে,
মিথ্যাকে অস্ত্র বানিয়েছিলে,
তোমাদের জন্য ইতিহাসের একটিই রায়।
আলো আসবেই। সত্য জাগবেই।
চেতনা জ্বলবেই। অন্ধকার ভাঙবেই।
আর সময়, নিঃশব্দ অথচ অনিবার্য হাতে,
তোমাদের সমস্ত মিথ্যার ওপর
নিজের শেষ স্বাক্ষর রেখে যাবে।
প্রদ্যোত / ১৫ আগস্ট ২০২৬