আজ জায়ান আসবে
আজ জায়ান আসবে
[বোমা হামলায় নিহত জায়ান স্মরণে]
ছোটবেলায় গ্রীষ্মের বা শীতের ছুটিতে
যখন দাদাবাড়ি বা নানাবাড়ি যাবার পরিকল্পনা হত
কী এক উৎসব উৎসব অনুভূতি
মনকে তোলপাড় করে যেত
গোছগাছ আর সাজসজ্জার কতনা আড়ম্বর
দাদাকে ঠাকুরভাই আর নানাকে ভাইয়া ডাকতাম
নাতি আসবে বলে
এই দুটি অদ্ভুত রকমের ভালো মানুষের
সে কী পাগলামী
নাতি কী খাবে কীসে তার বেশি আনন্দ
তা নিয়ে কত্তো আয়োজন
হাটে গিয়ে এটা সেটা কত কী কেনাকাটা
দাদার ও নানার উভয় বংশের বড় নাতি হওয়ায়
আদর যত্নে একটু বাহুল্যই ছিল
গাছের পাকা ফলগুলো তুলে রাখা
পুকুরের বড় মাছটা ধরে জিইয়ে রাখা
পছন্দের পিঠা তৈরীর জন্য ঢেঁকিতে চাল কোটা সহ অজস্র আয়োজন শেষে উদগ্রীব সবাই
বাবু আসবে!
পায়ে হাঁটা পথের প্রান্তে
অপেক্ষারত মামা খালারা কিংবা কাকা ফুপু কাজিনরা
বাড়িতে দুষ্টু কথার খুনসুটি নিয়ে দাদী নানীরা
গাড়ি থেকে নামা মাত্র
বাঁধভাঙা উল্লাস নিয়ে ছুটে এসে বুকে জড়িয়ে নেয়া
বাবু এসেছে! বাবু এসেছে!
কত্তো বড় হয়ে গেছিস!
শরীটা এমন শুকিয়ে গেছে কেন?
এবার আর যেতে দেবোনা তোকে!
প্রিয়মুখগুলোর সংস্পর্শে প্রিয় স্থানদুটি স্বর্গ আমার
নস্টালজিয়া আমাকে গ্রাস করছে আজ।
আজ জায়ান আসবে
সবার প্রিয় মিষ্টি খোকা
দাদাবাড়ি নতুন করে রঙ করা হয়েছে
মিষ্টি কন্ঠে কোরআনের সুরা শুনবে বলে
উদগ্রীব মামা খালা নানা নানী
হাজার হাজার চেনা অচেনা প্রিয়মুখ
ভীড় করে আছে এয়ারপোর্টে
দাদাবাড়ি নানাবাড়ি সর্বত্র আত্মীয়দের জমায়াত
জায়ান আসবে!
বাবার সাথে পার্ল অব দ্য সী'তে গিয়েছিল বেড়াতে
বাবাকে হাসপাতালে রেখে
একাই ফিরছে আজ
এতোটুকু মানুষ একা এতোটা পথ আসতে পারে?
বড় হয়ে গেছে খোকা!
শিখে ফেলেছে একাই অসীমের পথচলা
জেনে গেছে সত্য বয়োবৃদ্ধ পৃথিবীরও আগে!
জায়ান আসবে
কত্তো আয়োজন তার জন্য
অগনিত চোখের ঝর্না ধুইয়ে দেবে পথ
লক্ষ হৃদয়ের গালিচা পাতা হয়েছে
বাগানের সব সুরভিত ফুল অপেক্ষমান
ছোট্ট কফিনটিকে ঢেকে দিতে কমনীয় সৌরভে!
আজ জায়ান আসছে
বাঁধভাঙা কান্নার জলোচ্ছাসে!
মিষ্টি খোকার এমন আসা কি কাঙ্ক্ষিত ছিল কারো?
পুনশ্চঃ
আমরা এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য
করে যেতে পারিনি বলে
ধরণী মাতা তার হৃদয়ের
সাড়ে তিন হাত খুড়ে রেখেছে
প্রিয় সন্তানকে শান্তিতে ঘুম পাড়াবে বলে!
প্রদ্যোত / ২৩ এপ্রিল ২০১৯