প্রশান্তরা ভালো থাকে
প্রশান্তরা ভালো থাকে
তৃতীয় বিশ্বের তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক আমি
আমার কি আমিত্ব করা সাজেরে, প্রশান্ত!
তুই এবং তোদের মতো যারা
ঈশ্বরের বর নিয়ে এসেছিস পৃথিবীতে
কতশত খ্যাতিতে ভুষিত
মুখে বন্ধু বললেও তোদের পাশে কি আমাদের মানায়?
আমরা আম জনতা যে
হয়তো মানুষের পর্যায়েই পরি না
কত সস্তায় বিকিয়ে যাই নিমেষেই
মুখে মিষ্টি-মধুর কথা বলে হাজারো মহাজন
আমাদের ক্রীতদাস করে।
আমরা প্রভুদের মহান মানবতার বাণীতে বিগলিত হই
প্রভুদের প্রভূত কার্যকলাপ
কৃষ্ণ-লীলা মনেকরে বাহবা দেই
প্রভুরা ফুলে-ফেঁপে ওঠেন
দিন দিন মোটা তাগড়া হন
আর আমরা চিড়ে চ্যাপ্টা হই সংসার ও প্রভুদের চাপে
জীবনীর যেটুকু অবশিষ্ট থাকে
তাও শুষে নিতে আসে কেউ কেউ
সস্তাতর দরে ওটুকুও দিয়ে দেই
আমাদের নিখাদ ভালোবাসাকে ব্যবহার করেও
বানিজ্য করতে চায় তথাকথিত প্রিয়জনেরা
আমরা দাস ও পণ্য দুভাবেই উন্নত মানের
প্রভুরা মায়না দেন দিন-ক্ষণ হিসেব করে
আর ভালোবাসার(?) ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাই অনুগ্রহ
হয়তো একবেলা ভোজন
নয়তো বিদেশী সিগারেটের একটা প্যাকেট
কিংবা দুই পেগ স্বর্গীয় অমৃত
আমরা তাতেই পরম তৃপ্তি নিয়ে ঘরে ফিরি
গদগদ থাকি উপহার আর অনুগ্রহে
তোরা ভালো আছিস, প্রশান্ত
হয়তো প্রভু কিংবা ভালোবাসার পাইকার হয়ে
তোদের ভালোথাকা দেখে আমরাও সুখে থাকি
'ঘ্রাণে অর্ধ-ভোজনে'র পরিতৃপ্তিতে
প্রদ্যোত