শিশু হত্যার জবাব দে!
শিশু হত্যার জবাব দে!
রক্তমাখা পথের ধারে আজও পড়ে আছে ছোট্ট এক জুতো, মায়ের বুকের দুধের গন্ধ না শুকাতেই হাম এসে কেড়ে নিলো শত শত শিশুর ভবিষ্যৎ।
কে দেবে জবাব? কার টেবিলের নরম কাগজে আটকে ছিলো একটি টিকার অনুমোদন? কার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে ফাইলের নিচে চাপা পড়েছিলো একটি শিশুর শেষ নিঃশ্বাস?
ইউনিসেফ কড়া নেড়েছিলো- “দাও টিকা, বাঁচাও শিশু!” কিন্তু ক্ষমতার করিডোরে তখন মানুষের চেয়ে বড় ছিলো হিসাব, বেঁচে থাকার চেয়ে বড় ছিলো নকশা, বাংলাদেশকে ক্ষতবিক্ষত করার অদৃশ্য এক মেটিকুলাস ষড়যন্ত্র!
আজ সেই ষড়যন্ত্রের পথ বেয়ে কবরস্থানের দিকে হেঁটে যাচ্ছে চারশো’রও বেশি শিশুর নামহীন শবযাত্রা। কেউ ছিলো বাবার কাঁধে ঘুমিয়ে পড়া চাঁদ, কেউ ছিলো মায়ের কপালের লাল টিপের হাসি, কেউ ছিলো প্রথম “মা” বলা স্বর।
আজ তারা নেই।
আজ বাতাসে শুধু ভাসে- মায়েদের বুক চাপড়ানো কান্না, বাবাদের নির্বাক পাথর হয়ে যাওয়া মুখ, আর হাসপাতালের করিডোরে একটি শব্দের অন্তহীন প্রতিধ্বনি- “টিকা… টিকা… টিকা…”
ক্ষমতালিপ্সু নিষ্ঠুরেরা, শুনতে পাচ্ছ কি? এই মৃত শিশুরা আর নীরব নয়! তাদের ছোট্ট কবর থেকে উঠছে আগুন, তাদের অসমাপ্ত খেলনার ভেতর জমছে বিদ্রোহ।
যে হাত সময়মতো টিকা দেয়নি, যে মুখ মিথ্যার আশ্বাসে ঢেকেছে মৃত্যুর খবর, যে চেয়ার মানুষের জীবনের চেয়ে রাজনীতিকে বড় করেছে- ইতিহাস একদিন সেই হাতকে রক্তাক্ত বলেই লিখবে!
কারণ, একটি শিশুর মৃত্যু কখনোই “পরিসংখ্যান” নয়- এটি একটি জাতির ব্যর্থতা, এটি সভ্যতার কপালে জ্বলন্ত কলঙ্ক, এটি মায়ের বুকের ভিতর চিরকাল জেগে থাকা কেয়ামত!
দেখো, ওই দূরে এখনও দাঁড়িয়ে আছে টিকার অপেক্ষায় কাতর শিশুর সারি। তাদের চোখে প্রশ্ন- “আমাদেরও কি মরতে হবে?”
না! আজ বাংলার আকাশে শপথ উঠুক- আর কোনো শিশুর লাশ নয়, আর কোনো মায়ের খালি কোল নয়, আর কোনো অবহেলায় থেমে যাওয়া শ্বাস নয়!
মানুষের জীবন নিয়ে যারা খেলা করে, তাদের বিরুদ্ধে আজ শব্দ হোক বজ্রপাত, কলম হোক অগ্নি, কণ্ঠ হোক বিদ্রোহের রণহুঙ্কার!
কারণ, শিশুর কান্নার চেয়ে বড় কোনো ক্ষমতা নেই পৃথিবীতে।
প্রদ্যোত / ১০.০৫.২০২৬