← Back to poetry

খা

Poetry

খা

খা- আরও খা! মানুষ খা, মানুষের ভাত খা, মানুষের মুখের শেষ হাসিটুকুও চিবিয়ে খা। খা তার ঘর, খা তার দরজা, খা তার সন্তানের আঁকা প্রথম সূর্যটাও।

খা- কারণ তোর সভ্যতা এখন ক্ষুধার দাঁতে বাঁধানো এক বিশাল বিজ্ঞাপন।

এই পৃথিবী এখন আর পৃথিবী না, এ এক বুফে টেবিল- যেখানে ক্ষমতা খায় দেশ, দেশ খায় নদী, নদী খায় গ্রাম, গ্রাম খায় মানুষ, আর মানুষ? মানুষ তো মানুষকেই খায়।

খা! বিদ্যালয় খা, বই খা, ডিগ্রিগুলো তেলে ভেজে নাস্তায় খা। মেধাকে প্যাকেট কর, সার্টিফিকেটে লবণ মাখিয়ে বাজারে বিক্রি কর- তারপর বল, “উন্নয়ন হচ্ছে!”

খা- শিশুর দুধ খা, মায়ের চোখের ঘুম খা, বৃদ্ধ বাবার শেষ ওষুধটাও মুনাফার কড়াইয়ে ভেজে খা।

খা- কারণ তোর ক্ষুধা আর পেটের না, এ ক্ষুধা ক্ষমতার, এ ক্ষুধা লোভের, এ ক্ষুধা অন্যের রক্তে নিজের ঠোঁট লাল করার।

দেখ- আকাশের দিকে তাকিয়ে শকুনও লজ্জা পায় আজ। কারণ মানুষ এখন শকুনেরও শিক্ষক।

একদল মানুষ মানুষের সম্ভ্রম খেয়ে ধর্মের ভাষণ দেয়, একদল মানুষ মানুষের ভবিষ্যৎ খেয়ে জাতির গান গায়। একদল মানুষ মানুষের লাশের উপর দাঁড়িয়ে শান্তির কবুতর ওড়ায়!

খা- ভালোবাসা খা, বন্ধুত্ব খা, বিশ্বাস খা, তারপর নিঃসঙ্গ শহরের মোড়ে দাঁড়িয়ে মানবতার স্মরণসভা কর।

কী অপূর্ব সভ্যতা! এখানে মানুষ বাঁচে না- মানুষ ব্যবহৃত হয়। এখানে হৃদয় জন্মায় না- এখানে উৎপাদিত হয় বাজার।

তবু শুনে রাখ- যেদিন ক্ষুধার্তদের চোখে আগুন জন্মাবে, যেদিন শেষ রুটিটা ছিনিয়ে নেওয়া শিশুটি হাতে পাথর তুলবে, যেদিন অপমানিত মানুষ নিজের ভাঙা হাড় দিয়েই প্রাসাদের দরজায় আঘাত করবে!

সেদিন এই বিশ্বগ্রাসী মুখের দাঁত ভেঙে যাবে।

কারণ ইতিহাস বলে- মানুষ যতবার দানব হয়েছে, ক্ষুধার্ত জনতা ততবার আগ্নেয়গিরি হয়েছে।

তাই খা- আরও খা! এত খা যেন নিজের জিভেই একদিন নিজের সাম্রাজ্য গিলে ফেলিস।

কারণ ধ্বংস এখন দূরের কোনো ভবিষ্যৎ না- ধ্বংস এখন মানুষের মুখে বসানো এক উল্লসিত ক্ষুধার নাম।

প্রদ্যোত / ১৫ মে ২০২৬