আমার একটা গালিকার্ড চাই!
আমার একটা গালিকার্ড চাই! (একজন শ্রমজীবীর বয়ান থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে)
আমাকে একটি গালিকার্ড দাও! হ্যাঁ, ঠিক শুনেছ- এই সভ্যতার সার্কাসে আমি আর ভিক্ষা চাই না কোনো উন্নয়নের লাড্ডু, চাই না মিথ্যার ভর্তুকি, চাই না পাঁচ কেজি চালের বদলে পাঁচশো কেজি অপমানের বস্তা।
আমাকে শুধু একটি গালিকার্ড দাও- যাতে আমি রাষ্ট্রস্বীকৃত ভাষায় সব লুটেরা, ভণ্ড, মুখোশধারী গিরগিটি, চেয়ার আঁকড়ে থাকা রক্তচোষা অক্টোপাসদের প্রাণভরে ধুয়ে দিতে পারি!
যারা শিশুর দুধ চুরি করে আর টিভির পর্দায় দাঁড়িয়ে বলে- “দেশ এগিয়ে যাচ্ছে,” তাদের দিকে থুথুর মতো ছুঁড়ে মারতে চাই আমার প্রতিটি শব্দ।
যারা হাসপাতালের বেড বিক্রি করে, ওষুধের বোতলে মৃত্যু ভরে, আর মানুষের কফিনের ওপর দাঁড়িয়ে ফিতা কেটে উন্নয়নের সেলফি তোলে- তাদের জন্য চাই একটি আগ্নেয়গিরির অভিধান!
আমাকে গালিকার্ড দাও- যাতে আমি সংসদের দেয়ালে লিখে আসতে পারি: “হে গণতন্ত্রখেকো বাদুড়েরা, দিনে সংবিধান চাটো, রাতে মানুষের রক্ত!”
এই সমাজে এখন চোরেরা সম্মানিত, দালালেরা পদকপ্রাপ্ত, আর সত্যবাদীরা ফুটপাথে বসে নিজেদের ক্ষত সেলাই করে।
তাই আমি চাই- একটি বৈধ গালিকার্ড!
যাতে আমি মাইকে ঘোষণা করতে পারি- হে মুনাফাখোর শকুনেরা, তোমাদের টাইয়ের ভাঁজে লেগে আছে শ্রমিকের ঘাম, তোমাদের বিলাসবহুল ডাইনিং টেবিলে পরিবেশন হয় অনাহারীর কান্না!
হে ক্ষমতার ভাঁড়েরা, তোমাদের ভাষণ হলো পচা ডাস্টবিনে আতরের ছিটা; উপরে সুগন্ধ, ভেতরে মৃত বিবেকের পোকা কিলবিল!
আমি এমন এক গালিকার্ড চাই যার প্রতিটি অক্ষর হবে বারুদের মতো তীক্ষ্ণ, বজ্রপাতের মতো নির্মম, আর ক্ষুধার্ত মানুষের আর্তনাদের মতো সত্য।
আমি গালি দিতে চাই- সেই সব সভ্য হায়েনাদের যারা দুর্নীতিকে নীতিকথা বানায়, অন্যায়কে জাতীয় সংগীত বানায়, আর মানুষের চোখের জলের ওপর নির্মাণ করে ক্ষমতার শপিংমল।
আমাকে দাও সেই কার্ড- যাতে আমি নির্ভয়ে বলতে পারি:
“হে পাপের মহারাজারা, তোমাদের সিংহাসনের প্রতিটি পায়ায় গরিবের হাড় গুঁড়ো করা! তোমাদের প্রতিটি করতালিতে একটি করে শিশুর ভবিষ্যৎ কবর হয়!”
আমি আর ফুলের ভাষা জানি না- এখন আমার শব্দে আগুন জ্বলে। এখন আমার কবিতার প্রতিটি লাইনে ক্ষুব্ধ জনতার দাঁত কিড়মিড় করে।
তাই দাও- আমাকে একটি গালিকার্ড দাও!
যাতে আমি ইতিহাসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অত্যাচারীর চোখে চোখ রেখে বলতে পারি- “তোমাদের সভ্যতা আসলে রক্তমাখা এক ভাঁড়ামি, আর তোমাদের উন্নয়ন মানুষের কবরের ওপর লাগানো নিয়নবাতি!”
প্রদ্যোত / ১১ মে ২০২৬